মো; সাজ্জাদ হোসেন, আশুলিয়া (সাভার) প্রতিনিধি: আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাইভেট শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কৌশলে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার মোছা. সাহিদা আক্তারের কন্যা মোছা. তাইবা আক্তার স্বর্ণা (১৪) স্থানীয় গাজীরচট মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে স্থানীয় শিক্ষক মো. আতিকুর রহমানের কাছে প্রাইভেট পড়তো।
গত ৩০ মার্চ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বর্ণা আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক আতিকুর রহমানের কাছে খোঁজ নিতে গেলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, নিখোঁজ হওয়ার সময় স্বর্ণা পরিবারের অজান্তে ঘরে থাকা তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এ ঘটনা পরিকল্পিত এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়ে এসব অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত শিক্ষক আতিকুর রহমান ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে মেয়ের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে বিশ হাজার টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মোজাম্মেল ও মাসুদ নামের আরো দুইজনের সহযোগিতায় আতিকুর রহমান পরিকল্পিতভাবে ওই ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন শিক্ষক যদি এমন ঘটনায় জড়িত থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬