কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণে দুই সিটি করপোরেশনই বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর বারোটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত মোট এক হাজার সাতশ তেতাল্লিশটি ট্রিপে সাত হাজার তিনশ একচল্লিশ দশমিক পঁচাত্তর টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত দুইটার মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় প্রথম দিনে মোট এক লাখ আঠারো হাজার সাতশ ঊননব্বইটি কোরবানির পশু জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে দুপুর থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত মোট বারো হাজার ছয়শ চুরাশি টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলমান কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী রাত বারোটার মধ্যে অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ আঠারো হাজার টন অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএসসিসির আওতাধীন অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ বর্জ্য ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, করপোরেশনের মোট পঁচাত্তরটি ওয়ার্ডের মধ্যে একাত্তরটি ওয়ার্ড ইতোমধ্যে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। বাকি চারটি ওয়ার্ডের প্রায় নব্বই শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গঠনে ভবিষ্যতেও সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর আগে একই দিনে দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন থেকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অন্যদিকে মিরপুরে ডিএনসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্জ্য রাত দুইটার মধ্যে অপসারণের আশা প্রকাশ করেন।
রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, বাংলা মোটর, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান দেখা গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জ্য অপসারণ ও পরিবহনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ দ্রুত কাজের প্রশংসা করলেও কেউ আবার পুরো নগরজুড়ে পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট না হওয়ার কথা জানান।
সানা/আপ্র/২৯/৫/২০২৬