রোহিঙ্গা সংকটকে রাজনৈতিক প্রকৃতির বিষয় হিসেবে বিবেচনা করায় এটি বিমসটেকের বর্তমান এজেন্ডায় নেই বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে। তিনি বলেছেন, বিমসটেক মূলত অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে এবং রাজনৈতিক ইস্যু থেকে দূরে থাকে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে সংস্থার এজেন্ডা নির্ধারণ করে। এখন পর্যন্ত বিমসটেকের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই রোহিঙ্গা সংকটও সেই কাঠামোর বাইরে রয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং কারিগরি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিমসটেক গঠিত হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।
বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিজভূমি মিয়ানমারও রয়েছে। এ কারণে সংকট সমাধানে সংস্থাটির সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করে আসছে ঢাকা।
এর আগে সোমবার বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সংস্থাটিকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তার একদিন পরই বিমসটেকের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মহাসচিব বলেন, সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করছে।
ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, বিমসটেক দুই অঞ্চলকে এক জায়গায় এনে বাস্তবিক ও দৃশ্যমান সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন নিয়েই সংস্থাটি কাজ করছে; তবে এর মূল দৃষ্টি অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার ওপর।
সানা/আপ্র/২২/৭/২০২৬