রাজধানীর সবুজবাগে পূর্বশত্রুতার জেরে ইব্রাহিম পলাশ (৩৬) নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে, বুকে ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সবুজবাগ থানার রাজারবাগ বাজারের পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইব্রাহিম পলাশের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবুল বাশার। তিনি রাজধানীর সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি আগে প্রাইভেটকারের চালক ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশকে হাসপাতালে নেওয়া তাঁর প্রতিবেশী মো. হীরা জানান, ঘটনার সময় পলাশ একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ ১০ থেকে ১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় পলাশের দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর বুকে দুটি ছুরিকাঘাত এবং মাথায়ও আঘাত করা হয়।
মো. হীরার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবুজের সঙ্গে পলাশের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। পলাশ চুরি হওয়া রিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
সানা/আপ্র/২২/৭/২০২৬