অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই ভূখণ্ডের জন্মই হয়েছে সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের ভেতর দিয়ে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার স্রোতের মতোই এ দেশের মানুষের জীবনও বহমান- কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঙালি জাতি বারবার প্রমাণ করেছে, তারা শুধু টিকে থাকার জাতি নয়; তারা স্বপ্ন দেখার জাতি, প্রতিরোধ গড়ার জাতি, মানবিক পৃথিবী নির্মাণের জাতি। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে আজও একটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়- আমরা কি সত্যিই একটি মানবিক ও সুশাসিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পেরেছি?
রাষ্ট্র কেবল রাস্তা, সেতু, অট্টালিকা কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমষ্টি নয়। রাষ্ট্র মূলত মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি নৈতিক কাঠামো। যখন কোনো রাষ্ট্রে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয়, প্রশাসন জবাবদিহিমূলক হয়, দুর্নীতি কমে আসে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই সেই রাষ্ট্র সুশাসনের পথে এগিয়ে যায়। আর যখন সেই সুশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয় মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা—তখন জন্ম নেয় এক মানবিক বাংলাদেশ।
আজকের বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করছে। একদিকে উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি- মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, ডিজিটাল সংযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; অন্যদিকে বৈষম্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট, বেকারত্ব, সামাজিক অবক্ষয়। উন্নয়নের আলো যত উজ্জ্বল হচ্ছে, ততই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে কিছু অন্ধকারও। তাই প্রশ্ন জাগে- উন্নয়ন কি কেবল অবকাঠামো নির্মাণের নাম, নাকি মানুষের জীবনে ন্যায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নামও উন্নয়ন?
সুশাসন মানে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; সুশাসন মানে জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন সেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল মানুষটিও নিরাপদ বোধ করে। যে দেশে বিচার পেতে মানুষের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না, যেখানে নাগরিক পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে মর্যাদা পাওয়া যায়, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভয়ের দেয়ালে আটকে যায় না—সেই দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, গণতন্ত্রের পথচলা কখনোই খুব মসৃণ ছিল না। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসন, রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় বিভাজন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বারবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। ফলে জনগণের আস্থা ক্ষয় হয়েছে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পূর্ণতা পায়নি। অথচ সুশাসনের ভিত্তি হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা দেয়।
আজ বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন চায়। কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে ন্যায়ভিত্তিক। তারা চায় এমন এক সমাজ, যেখানে একজন কৃষকের ঘাম যেমন মূল্য পাবে, তেমনি একজন শ্রমিকের জীবনও নিরাপদ হবে। তারা চায় এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত চিন্তার কেন্দ্র, হাসপাতাল হবে মানবিকতার আশ্রয়, আদালত হবে ন্যায়ের প্রতীক আর প্রশাসন হবে জনগণের সেবক।
দুর্নীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না; মানুষের বিশ্বাস ধ্বংস করে। যখন একজন যোগ্য মানুষ চাকরি পায় না, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ক্ষমতা ন্যায়কে অতিক্রম করে যায়; তখন সমাজে হতাশা জন্ম নেয়। তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে বিশ্বাস হারাতে থাকে। অথচ একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ সমাজের স্বপ্ন ও আস্থা। ওই আস্থা যদি ভেঙে যায়, তাহলে উন্নয়নের সব পরিসংখ্যানও এক সময় অর্থহীন হয়ে পড়ে।
সুশাসনের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জবাবদিহি। যে রাষ্ট্রে ক্ষমতার জবাবদিহি থাকে না, সেখানে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচার অনিবার্য হয়ে ওঠে। সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ- সবকিছু মিলেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। কিন্তু যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তবে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়; শিক্ষা মানুষকে নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে মুখস্থনির্ভর, পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। ফলে মানবিকতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গাগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এমন শিক্ষা দরকার, যেখানে বিজ্ঞান থাকবে, প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু পাশাপাশি থাকবে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হতে হবে মুক্তবুদ্ধি ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। একজন শিক্ষার্থী যেন ভয় নয়, স্বাধীন চিন্তা নিয়ে ক্যাম্পাসে হাঁটতে পারে। শিক্ষক যেন রাজনৈতিক আনুগত্যের বদলে জ্ঞানচর্চায় মূল্যায়িত হন। গবেষণাগার যেন কেবল ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সমস্যার সমাধানের পথ দেখায়। কারণ জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ছাড়া সুশাসনের স্বপ্ন কখনো পূর্ণতা পায় না।
স্বাস্থ্য খাতও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একজন দরিদ্র মানুষ যদি চিকিৎসার অভাবে মারা যায়, তবে সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন কখনো পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য আজও বড় বাস্তবতা। অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করে, ঋণে জড়িয়ে পড়ে। তাই স্বাস্থ্যকে ব্যবসা নয়, নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া মানবিক বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশের নারীরা আজ শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা, বিজ্ঞান, খেলাধুলা—সবখানেই নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। কিন্তু এখনো নারীর নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক কুসংস্কার বড় চ্যালেঞ্জ। একটি সভ্য রাষ্ট্র তখনই গড়ে ওঠে, যখন নারীরা ভয় নয়, মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশের গ্রাম আজও এ দেশের প্রাণ। কিন্তু উন্নয়নের অনেক সুফল এখনো সমানভাবে পৌঁছায়নি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে।
কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, নদীভাঙনে মানুষ নিঃস্ব হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে উপকূলীয় মানুষ অনিশ্চয়তায় ভোগে। তাই উন্নয়নকে হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না। একটি মানবিক রাষ্ট্রে ধর্ম হবে সম্প্রীতির শক্তি, বিভেদের অস্ত্র নয়। বাংলাদেশ বহু সংস্কৃতি, বহু বিশ্বাস ও বহু পরিচয়ের এক অপূর্ব সম্মিলন। এই বৈচিত্র্যই আমাদের সৌন্দর্য, সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণা ও সহিংসতা সেই সৌন্দর্যকে ক্ষতবিক্ষত করে। তাই আমাদের প্রয়োজন সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি। গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের বিবেক।
স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সাংবাদিক যদি ভয় নিয়ে সত্য লিখতে বাধ্য হন, তবে সমাজ ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তথ্যের অপব্যবহার, গুজব ও বিদ্বেষও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাই তথ্যের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চাও প্রয়োজন।
পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধও মানবিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদী দখল, বন উজাড়, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু সংকট আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন যদি প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, তবে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমাদের এমন উন্নয়ন দরকার, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি পাশাপাশি বাঁচতে পারে।বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এই তরুণদের যদি কর্মসংস্থান, ন্যায়সঙ্গত সুযোগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না দেওয়া হয়, তবে হতাশা বাড়বে। তাই তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি নয়, রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।
সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণ অনেক সময় জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে আড়াল করে দেয়। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজনীতি যদি কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তবে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণের দর্শন, নৈতিক নেতৃত্বের চর্চা। মতভেদ থাকবে, কিন্তু তা যেন সহিংসতা ও প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। কারণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলেই ছিল মানবিকতা, ন্যায় ও সমতার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ছিল এমন এক রাষ্ট্রের, যেখানে মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে। তাই সুশাসনের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন রাষ্ট্র জনগণের আস্থা অর্জন করে।
বিশ্বের অনেক দেশ উন্নয়ন করেছে, কিন্তু সব দেশ মানবিক হতে পারেনি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও যদি মানুষের মধ্যে ভয়, বৈষম্য ও অবিচার থাকে, তবে সেই উন্নয়ন আত্মাহীন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশকে তাই এমন এক পথ বেছে নিতে হবে, যেখানে উন্নয়ন ও মানবিকতা পাশাপাশি এগিয়ে যাবে। আজ প্রয়োজন একটি নৈতিক পুনর্জাগরণ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—সবখানেই মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা ছাড়া সুশাসন কেবল নীতিপত্রের ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিশুরা নিরাপদে স্বপ্ন দেখতে পারে; যেখানে বৃদ্ধ মানুষ একাকিত্বে নয়, সম্মানে বাঁচে; যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষ করুণা নয়, অধিকার পায়; যেখানে ভিন্নমত শত্রুতা নয়, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র মানুষের ভয় নয়, ভরসার নাম হবে।
একদিন হয়তো বাংলাদেশের আকাশে নতুন ভোর উঠবে। সেই ভোরে দুর্নীতির অন্ধকার কমে আসবে, অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে পড়বে, প্রশাসনের দরজায় মানুষ অপমানিত হবে না, আদালতের সিঁড়িতে ন্যায়বিচার দীর্ঘশ্বাস ফেলবে না। সেই ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মুক্তচিন্তার আলো জ্বলবে, হাসপাতালের করিডোরে অর্থের অভাবে জীবন থেমে যাবে না, কৃষকের ঘরে অভাবের কান্না থাকবে না। সেই বাংলাদেশ কেবল অর্থনীতির পরিসংখ্যানে বড় হবে না; বড় হবে মানবিকতায়। পৃথিবী তখন বাংলাদেশকে চিনবে শুধু উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবিক সুশাসনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে। কারণ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অস্ত্র নয়, তার অর্থনীতি নয়, তার অট্টালিকাও নয়—রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস অর্জনের একমাত্র পথই হলো সুশাসন। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল সরকারের হাতে নয়; এটি আমাদের সবার হাতে।
শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, প্রশাসক- সবাই মিলে যদি নৈতিকতা ও মানবিকতার নতুন সামাজিক চুক্তি গড়ে তুলতে পারি, তবে এই দেশ বদলাবেই। নদীর মতোই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে—কখনো ধীর, কখনো প্রবল; কিন্তু থেমে থাকবে না। আর সেই যাত্রার শেষ প্রান্তে হয়তো একদিন সত্যিই দাঁড়িয়ে থাকবে আমাদের স্বপ্নের সেই রাষ্ট্র- এক সুশাসিত, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক বাংলাদেশ।
লেখক: উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৫.২০২৬