গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই যেন উত্তেজনার বাতাস জমে উঠেছিল। কিন্তু সেই উত্তেজনা প্রথম সেকেন্ডেই আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে—কিক অফের পর মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল! চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস লিখে ফেলেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ঋতুপর্ণা চাকমার নিখুঁত সার্ভিস, আর আনিকার ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং—সব মিলিয়ে ম্যাচের শুরুটা হয়ে ওঠে স্বপ্নের মতো।
তারপরও থামেনি বাংলাদেশ। আক্রমণের ঢেউ একের পর এক ধাক্কা দিতে থাকে মালদ্বীপের রক্ষণে। কখনো পোস্ট, কখনো ক্রসবার—দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যায় গোলবার। মনে হচ্ছিল, ব্যবধান বাড়বে শুধু সময়ের অপেক্ষায়।
৩৪তম মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসানও ঘটল। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রসে শক্তিশালী শটে গোল করেন উমেহেলা মারমা। বাংলাদেশের ডাগআউটে তখন উল্লাসের ঢেউ।
কিন্তু ফুটবল এমনই—নিশ্চয়তা কখনো স্থায়ী নয়। ৪১তম মিনিটে হঠাৎই রক্ষণে ঢিলেমির সুযোগ নেয় মালদ্বীপ। থ্রু পাস আর ভুল অবস্থানের সুযোগে তারা ফিরিয়ে আনে ম্যাচে উত্তেজনা, ব্যবধান কমে আসে ২-১।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন নতুন ম্যাচ। বাংলাদেশ এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। ৫১তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে সমতায় ফিরে আসে মালদ্বীপ—গ্যালারিতে নেমে আসে চাপা নীরবতা।
তবে এই বাংলাদেশ ভেঙে পড়ার জন্য আসেনি। আবারও জ্বলে ওঠেন ঋতুপর্ণা চাকমা। ৬৪তম মিনিটে তার দুর্দান্ত ক্রসে গোল করেন সুরভি আকন্দ প্রীতি। আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ—এবার আর পেছনে তাকায়নি তারা।
শেষদিকে ম্যাচে আরও নাটকীয়তা যোগ হয়। মালদ্বীপ চেষ্টা করেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ফ্রি কিক থেকে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান বাড়ান কোহাতি কিসকু—৪-২।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় বড় অর্জন—**‘বি’ গ্রুপ থেকে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ।**
কিন্তু স্কোরলাইন শুধু সংখ্যার গল্প বলে। এই ম্যাচ বলেছে আরেকটি গল্প—১১ সেকেন্ডে আগুন, ভুলে ভাঙা চাপ, আবার ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য মানসিকতা।
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা দর্শক, একই হোটেলে থাকা রাশিয়ান বন্ধুরা, কিংবা টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা কোটি মানুষ—সবাই দেখেছে একটি দলকে, যারা শুধু জেতেনি, লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশের এই জয় তাই কেবল সেমিফাইনালের টিকিট নয়—এটা আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা, এটা শিরোপার পথে আরেকটি দৃঢ় পদক্ষেপ।
সানা/আপ্র/২৮/৫/২০২৬