গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

মেনু

১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, তবুও শিক্ষকের ব্যাংকে ঢুকছে সরকারি বেতন

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল

প্রকাশিত: ১৩:২৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৫ এএম ২০২৬
১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, তবুও শিক্ষকের ব্যাংকে ঢুকছে সরকারি বেতন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক কম্পিউটার শিক্ষকের বিরুদ্ধে টানা ১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে পাঠদান তো দূরের কথা, একদিনও উপস্থিত না থেকেও তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি বেতন-ভাতা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক পীযুষ কান্তি ঘোষ। তবে তিনি দাবি করেছেন, ২০০৯ সালেই বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এরপর আর কখনো বিদ্যালয়ে যাননি। তার ভাষ্য, কীভাবে তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি টাকা জমা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পীযুষ কান্তি ঘোষ ২০০৬ সালে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিন বছর চাকরি করেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০০৯ সালে তিনি ঢাকায় চলে গিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হন। পরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপিওভুক্ত হন। এরপর থেকে নিয়মিত তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতা জমা হতে থাকে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের প্রধান শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালে তিনি পীযুষ কান্তির বেতন বন্ধ করেছিলেন। পরে বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার তা চালু করা হয়। অন্যদিকে বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বরখাস্ত থাকলেও তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। তিনি আ‡হর দাবি করেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বিষয়টি পরিচালিত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পীযুষ কান্তি ঘোষ বলেন, তিনি ২০০৯ সালেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এরপর বিদ্যালয়ে আর যাননি। তার দাবি, এত বছরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেও তিনি যাননি এবং তার হিসাবে কীভাবে লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এটি একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এসি/আপ্র/১৪/০৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দুই হাত ছেড়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রাণ গেল তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের
১৮ আগস্ট ২০২৬

দুই হাত ছেড়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রাণ গেল তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চলন্ত মোটরসাইকেলের দুই হাত ছেড়ে ভিডিও বান...

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান, ফিরছেন মনিরুজ্জামান
১৮ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান, ফিরছেন মনিরুজ্জামান

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে বদলি করে তাঁর নিজ কর্মস...

লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ, গোবিন্দগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালা
১৮ আগস্ট ২০২৬

লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ, গোবিন্দগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালা

এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে লাইসেন্সের মে...

জনগণের স্বার্থে মাইক্রোস্কোপে দেখুন, সাংবাদিকদের সেতুমন্ত্রী
১৮ আগস্ট ২০২৬

জনগণের স্বার্থে মাইক্রোস্কোপে দেখুন, সাংবাদিকদের সেতুমন্ত্রী

জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সাংবাদিকদের দায়িত্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে