গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা: জলাবদ্ধতা আমাদেরই হাতের কামাই

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৪ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৮ এএম ২০২৬
অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা: জলাবদ্ধতা আমাদেরই হাতের কামাই
ছবি

ছবি: সংগৃহীত

মাহমুদ সোহেল    

এ বছরের ২১ জানুয়ারি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। তখনও তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি, সামনে ছিল নির্বাচন। সেই সাক্ষাতে আমিও উপস্থিত ছিলাম। পরিবেশ সাংবাদিক হওয়ায় আমি প্রশ্ন করি—বাস-অযোগ্য ঢাকার পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলে আপনার পরিকল্পনা কী? তার উত্তরে বোঝা গেল, প্রাণহীন ঢাকা নিয়ে তার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। সেদিন তিনি ঢাকা শহর নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা আমাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়। সময়োপযোগী বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তিনি আমাদের জানান। সে বিষয়ে পরে আসছি। তবে তারেক রহমানের মতো এমন অনেক প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে ঢাকা নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; কিন্তু কেউই মৃতপ্রায় এই শহরটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেননি।

আজ বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তবে পরিবেশ সাংবাদিক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই ভোগান্তির কথা ভুক্তভোগীরা খুব দ্রুতই ভুলে যাবেন। শহরকে সুন্দর রাখার গুরুত্ব মানুষ এখন যেভাবে অনুধাবন করছে, পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতিও হারিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের এই খামখেয়ালিপনার কারণে ঢাকার পরিবেশ আরও খারাপ হচ্ছে। জাতি হিসেবে আমরা ভীষণ অসচেতন। বিশেষ করে এই ইস্যুতে গণমাধ্যমের ব্যর্থতা স্পষ্ট। ঢাকার পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করতে না পারার দায় গণমাধ্যমও এড়াতে পারে না। অচেনা লাগছিল ঢাকার রাজপথ। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার হওয়ায় অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। অথচ বৃষ্টি হয়েছে খুবই সামান্য। সামান্য বলছি এ কারণে যে, আষাঢ় মাসে এমন বৃষ্টি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সামান্য বৃষ্টিতেই কেন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেল?

গত ১৭ বছর ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামের ট্যাবলেট খাইয়ে এ জাতিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। বড় বড় ভবন আর উড়ালসড়ক নির্মাণ করে জাতিকে সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একটি আধুনিক শহরের প্রধান বৈশিষ্ট্য শুধু সুউচ্চ দালানকোঠা হতে পারে না- আমরা পরিবেশবাদী সাংবাদিকেরা আজও জাতিকে তা বোঝাতে পারিনি। এবার আমরা একটু খুঁজে দেখি, সামান্য বৃষ্টিতেই কেন ডুবে যায় ঢাকা। আজ আষাঢ়ের মাঝামাঝি। প্রকৃতির নিয়মে এখন বাংলাদেশে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কথা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি গড় হিসাব অনুযায়ী, আষাঢ় মাসে (জুন-জুলাই) ঢাকায় স্বাভাবিকভাবেই গড়ে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। রোববার ডেইলি স্টার বাংলার অনলাইন সংস্করণের তথ্য বলছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মাত্র ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর তাতেই ঢাকা ডুবে গেল! সত্যিই বিস্ময়কর। আসলে এই শহর যে বহু আগেই তার বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, আজকের ঘটনা যেন সেটিই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। অথচ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানলেও প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না।

এই শহরে শীতকালেও স্বস্তি নেই। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তখন নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা খুব কমই চোখে পড়ে। ফলে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে পরিণত হয় ঢাকা। দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন নিয়মিত এমন শিরোনাম প্রকাশিত হয়। তীব্র গরমেও স্বস্তি নেই। আবার স্বস্তির আশায় বৃষ্টি নামলে শুরু হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। অর্থাৎ ঢাকাবাসীর অশান্তি যেন নিয়তিতেই লেখা। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিজের চোখে দেখেছি, মানুষের এমন দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশে অধিকাংশ টেলিভিশন ও পত্রিকার আগ্রহ খুবই কম। আমার কাছে মনে হয়, গণমাধ্যমের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিই পরিবেশ সাংবাদিকতার গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করেন না। হয়তো সে কারণেই বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বহীন। ঢাকার এই দুর্ভোগের পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র। প্রমাণ হবে, এই জলাবদ্ধতা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের হাতের কামাই। নদী ও খালগুলোকে গলা টিপে হত্যার পেছন থেকে উঠে আসবে একেকটি ঐতিহাসিক আত্মবিনাশের গল্প।

পৃথিবীর খুব কম দেশের রাজধানীই ঢাকার মতো এত চমৎকার ভৌগোলিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছিল। এই শহরের চারপাশ ঘিরে রয়েছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী। আর শহরের বুক চিরে জালের মতো ছড়িয়ে ছিল প্রায় ৬৫ থেকে ১০০টি প্রাকৃতিক খাল (সূত্র: জেলা প্রশাসন ও ঢাকা ওয়াসার ঐতিহাসিক নথি)। ধোলাইখাল, বেগুনবাড়ী খাল, সেগুনবাগিচা খাল ও কল্যাণপুর খাল—এসব জলপথ ছিল ঢাকার প্রাণ। বৃষ্টি হলেই এসব খাল দিয়ে পানি নদীতে গিয়ে পড়ত। একই সঙ্গে নদী ও খালগুলো সচল থাকলে ঢাকার যানজটও অনেকটাই কমে যেত। মালামাল বহনকারী যানবাহন সড়কে কম চলত। কারণ নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী; ফলে মানুষও সেই পথেই বেশি আগ্রহী হতো।

ঢাকার মতো নদী ও খালবেষ্টিত একটি শহর যদি পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশ পেত, তাহলে এর চিত্র আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। কিন্তু এই সুন্দর ও প্রাকৃতিক শহরটিকে ধ্বংস করল কারা? উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, অতীতের প্রায় সব সরকারই কোনো না কোনোভাবে এর জন্য দায়ী। বনশ্রী ও আফতাবনগরের মাঝ দিয়ে বহমান ছিল নড়াই নদী। অথচ ঘুষের বিনিময়ে সেই নদীকে সরকারি কাগজপত্রে খাল হিসেবে দেখানো হয়েছে। ‘নোঙর’ নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবছর নড়াই নদী দখল ও হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচি পালন করে। এই শহরে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। একটি আধুনিক শহরের জন্য অন্তত ১৫ শতাংশ জলাধার এবং ১৫ শতাংশ উন্মুক্ত সবুজ এলাকা থাকা উচিত। ঢাকায় সেই পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান ও জলাধার নেই। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি মাটিতে সংরক্ষিত হলে সারা বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত জলাধার না থাকায় একদিকে আমরা জলাবদ্ধতায় ভুগছি, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।

পানি গবেষকদের মতে, এভাবে জলাধার কমতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর ঢাকা শহরে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। তখন পানির অভাবে এই শহরে বসবাস করাই কঠিন হয়ে উঠবে। খুব স্পষ্ট করে বললে, ঢাকার এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ প্রকৃতির কোনো খামখেয়ালিপনা নয়; এটি সম্পূর্ণ আমাদেরই সৃষ্টি। উন্নয়নের নামে, আবাসন প্রকল্পের নামে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের অজুহাতে ঢাকার খালগুলো একের পর এক ভরাট করা হয়েছে। কোথাও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে খালের ওপর রাস্তা তৈরি হয়েছে, কোথাও বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে, আর বাকিটুকু দখল করেছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। ধোলাইখাল আজ ইতিহাসের পাতায় প্রায় বিলীন। সেগুনবাগিচা খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ভবন ও সড়ক। যে খালগুলো একসময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল, সেগুলোকে পরিণত করা হয়েছে কংক্রিটের বদ্ধ নালায়।

নদী ও খাল দখলের কারণেই অল্প বৃষ্টিতে ঢাকা ডুবে যায়। তবে এই জলাবদ্ধতার জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এ জন্য দায়ী বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও আমাদের নিজেদের চরম অসচেতনতা। একদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে, অন্যদিকে নাগরিকদের দায়িত্বহীনতায় অবশিষ্ট ড্রেন ও নালাগুলো পলিথিন, প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যে ভরে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার এ দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়েকটি বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত জরুরি।

প্রথমত, খাল পুনরুদ্ধার। ঢাকার পুরোনো মানচিত্র, সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, বক্স কালভার্টের পরিবর্তে উন্মুক্ত জলপথ ফিরিয়ে আনতে হবে। অতীতে যেসব খালের ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলো অপসারণ করে উন্মুক্ত খাল বা লেকে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিতে হবে। তৃতীয়ত, সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর করে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব একটি কার্যকর কর্তৃপক্ষের অধীনে আনতে হবে। চতুর্থত, নদীগুলোকে সচল করতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌপথকে আবারও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পঞ্চমত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে হবে। প্লাস্টিক ও পলিথিন যাতে ড্রেনে গিয়ে না পড়ে, সেজন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে পলিথিনের কার্যকর বিকল্প জনগণের কাছে সহজলভ্য করতে হবে।

ঢাকা আজ এক মৃতপ্রায় নগরী। শিশুদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই, নেই পর্যাপ্ত উন্মুক্ত পার্ক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ঢাকার পরিবেশকে উপেক্ষা করে কোনোভাবেই একটি আধুনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন লন্ডনের মতো একটি পরিকল্পিত শহরে বসবাস করেছেন। তাই দেশবাসীর প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে হয়তো ঢাকার পরিবেশ ও বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হলো, কোনো একক ব্যক্তি রাতারাতি এই শহরকে বদলে দিতে পারবেন না; বরং ঢাকাকে বদলাতে হলে সবার আগে বদলাতে হবে আমাদের নিজেদের। এই শহরের প্রাণ ও প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। গাছ লাগাতে হবে, খাল-নদী রক্ষা করতে হবে, যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং শহরটিকে নিজের বলে ভালোবাসতে হবে। কারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পৃথিবীর কোনো শহরই পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠেনি।

তারেক রহমান ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে কয়েকটি পরিকল্পনার কথা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরেছিলেন, যা আশাব্যঞ্জক। তার মতে, ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে দ্রুত, সহজ ও নিয়মিত রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অনেক মানুষ ঢাকায় ব্যয়বহুল বাসা ভাড়া করে থাকার পরিবর্তে নিজ নিজ জেলায় বসবাস করেই কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারবেন। এর ফলে যানজটের পাশাপাশি পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ধীরে ধীরে ঢাকার বাসযোগ্যতাও ফিরে আসতে পারে। তবে শেষ করতে চাই কিছতা হতাশার কথা দিয়ে। কারণ বাংলাদেশে এর আগে পরিবেশ রক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু দিন শেষে ঢাকার দূষণ ও জলাবদ্ধতা বেড়েছেই। তাহলে এর লাগাম টানবে কে? কোন সরকার, কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন নাগরিক উদ্যোগ এই শহরকে বাঁচাবে? উত্তর একটাই- আকাশ থেকে কেউ এসে ঢাকাকে রক্ষা করবে না। আমাদেরই এই শহরের হাল ধরতে হবে। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। দিন শেষে এই শহর আমাদেরই, তাই একে বাঁচানোর দায়িত্বও আমাদেরই।

প্রতিটি বাড়িতে যতটুকু জায়গা আছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। ছাদবাগান গড়ে তুলতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। যে বাড়িতে ছাদবাগান থাকবে, তাদের কর-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। এমন দূরদর্শী উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই ঢাকা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। অন্যথায় আগামী এক দশকের মধ্যেই পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবেশগত সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে। তখন চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শহর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হবে মানুষ।

লেখক: পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/১৩.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হারের দায় রেফারির কাঁধে চাপানোর সংস্কৃতি অনভিপ্রেত
১৩ জুলাই ২০২৬

হারের দায় রেফারির কাঁধে চাপানোর সংস্কৃতি অনভিপ্রেত

খান মহঃ আশরাফুল আলমখেলাধুলায় জয় ও পরাজয়- দুটিই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মাঠে যারা শ্রেয়তর কৌশল প্রদর্শন কর...

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
০৯ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

সিরাজুল ইসলাম    বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি সমুদ্র নয়; এটি দেশের ভবিষ্...

পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধ হোক
০৯ জুলাই ২০২৬

পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধ হোক

ওসমান গনিএকটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা পরিমাপের সবচ...

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি
০৯ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি

মো. জাহিদুল হাসানমাওয়া উপজেলার সোনাতুন্দি গ্রামের হাট দারিয়াপুর স্কুলের করিম মাস্টারকে কখনো ঢাকায় আস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই