একটি-দুটি নয়, শরীরে একসঙ্গে ১২৫টি টি-শার্ট। এত ভারী পোশাক পরে ম্যারাথন দৌড় শেষ করাই যেখানে কঠিন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড রাশ গরমের মধ্যেও এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ১২৫টি টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে ছয় ঘণ্টার কম সময়ে ম্যারাথন শেষ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি গিনেস বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী ব্যক্তিদের একজন ডেভিড রাশের কাছে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি যেন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এর আগেও একাধিক ব্যতিক্রমী কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে ‘ফেমাস আইডাহো পটেটো হাফ ম্যারাথন’-এ ১৩৭টি টি-শার্ট পরে দৌড় শেষ করে রেকর্ড গড়েছিলেন রাশ। সেই সাফল্য থেকেই এবার পূর্ণ ম্যারাথনে নতুন ইতিহাস তৈরির পরিকল্পনা করেন তিনি।
চ্যালেঞ্জের জন্য কয়েক মাস ধরে বিশেষ প্রস্তুতি নেন রাশ। ভারী ওজন নিয়ে দৌড়ানো, একাধিক স্তরের মোটা কাপড় পরে অনুশীলনসহ নানা কঠিন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি।
গত ১৬ মে ‘ওয়াইএমসিএ ফেমাস আইডাহো পটেটো ম্যারাথন’-এ ১২৫টি টি–শার্ট পরে দৌড় শুরু করেন রাশ। তবে এই রেকর্ডের পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রচণ্ড গরমে দৌড়াতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়ে যে, সঙ্গে থাকা বরফও শেষ হয়ে যায়।
জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যারাথনের মাঝপথে একটি গলফ মাঠে থামতে হয় তাঁকে। পরে তাঁর সহকারী দ্রুত বরফ সংগ্রহ করে আনেন। রাশ জানান, ওই বরফই তাঁকে গুরুতর অসুস্থতা থেকে রক্ষা করেছে এবং হাসপাতালে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ডেভিড রাশ ৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করেন। গিনেস বিশ্ব রেকর্ড কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ছয় ঘণ্টা। সময় শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে তিনি দৌড় শেষ করে নতুন ইতিহাস গড়েন।
দৌড় শেষ করার পর ১২৫টি টি–শার্ট খোলার অভিজ্ঞতাকে রাশ শরীর থেকে ‘ভূত নামানোর’ মতো বলে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘ সময় ভারী পোশাক বহনের কারণে তাঁর শরীরে লালচে দাগ পড়ে যায়। প্রায় ৪৩ পাউন্ড ওজনের টি–শার্টের চাপে পিঠেও প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন তিনি।
তসব কষ্টের পরও রাশের অর্জনের তালিকায় যোগ হয়েছে আরো একটি অনন্য সাফল্য। গিনেস বিশ্ব রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০০টি টি–শার্ট পরে পূর্ণ ম্যারাথন শেষ করার আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ডেভিড রাশ।
অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য ইচ্ছার মাধ্যমে আবারো প্রমাণ করলেন রাশ-মানুষের সীমাবদ্ধতার সীমানা অনেক সময় নিজের সংকল্প দিয়েই ভাঙা যায়। তথ্যসূত্র: ইউপিআই।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৩/৭/২০২৬