দীর্ঘদিন ধরে বন্দী থাকা মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক সরকার। একই সঙ্গে তাঁর দেখভালের দায়িত্ব সরকারই পালন করবে বলেও জানিয়েছে জান্তা প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে এ কথা বলেন।
আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, অং সান সু চি সুস্থ রয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, *‘তিনি আমাদের আত্মীয়, তিনি আমাদের বোন। তাই তাঁর দেখভালের দায়িত্ব আমাদেরই।’*
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যদিও সম্প্রতি তাঁর সাজা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। তবে তাঁর সহযোগীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা সাজানো হয়েছে। সু চিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সামরিক সরকার এখনো প্রকাশ করেনি, সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আসছে আসিয়ান, তবে এ পর্যন্ত সে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আসিয়ানের ১১ সদস্যদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা শান্তি উদ্যোগে গতি ফেরানো এবং মিয়ানমারের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগ এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব।
মিয়ানমারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আসিয়ান আগে পাঁচ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও জান্তা সরকার তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ কারণে পরবর্তী সময়ে আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও বলেন, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তবে সংকট সমাধান একদিনে সম্ভব নয়; এ জন্য ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও জানান, তিনি এবং আসিয়ানের অন্য সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অং সান সু চির বিষয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁরা সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তিনি সত্যিই সুস্থ আছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়। সূত্র: রয়টার্স।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৩/৭/২০২৬