ডিম ভাঙার পর অনেকেই কুসুমের সঙ্গে লেগে থাকা সাদা সুতোর মতো একটি অংশ দেখে চমকে যান। কেউ ভাবেন ডিমটি নষ্ট আবার কেউ সেটি তুলে ফেলে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই; বরং এ অংশটি ডিমের একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ গঠন; যা ডিমের সতেজতারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডায়েটিশিয়ানদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিমের ভেতরে কুসুমের সঙ্গে যে সাদা সুতোর মতো অংশটি দেখা যায়, এর নাম চালাজা বা ডিম্বমূল। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং প্রতিটি সুস্থ ডিমেরই একটি স্বাভাবিক অংশ।
চালাজার কাজ কী: চালাজা মূলত একটি ক্ষুদ্র নোঙরের মতো কাজ করে। এটি কুসুমকে ডিমের সাদা অংশের ঠিক মাঝখানে স্থির রাখতে সাহায্য করে। ডিম পরিবহন বা নড়াচড়ার সময় যাতে কুসুম এদিক-ওদিক সরে না যায় বা সহজে ভেঙে না পড়ে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে এই প্রোটিন তন্তু। আসলে ডিমের ভেতরে এমন দুটি পেঁচানো চালাজা থাকে, যা কুসুমকে দুই দিক থেকে ধরে রাখে। ফলে ডিম যতই ঝাঁকুনি খাক না কেন, কুসুম অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।
এটি কি খাওয়া নিরাপদ: অনেকের ধারণা, সাদা এই অংশটি কোনো ত্রুটি বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। চালাজা সম্পূর্ণ খাওয়ার উপযোগী ও নিরাপদ। এটি মূলত প্রোটিন দিয়েই তৈরি। তাই এটি খেলে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। পুষ্টিবিদদের মতে- চালাজা ডিমের স্বাদ, গন্ধ বা পুষ্টিগুণের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। এটি আলাদা করে ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নার সময় এটি সহজেই ডিমের সঙ্গে মিশে যায়।
চালাজা ডিমের গঠনকে সুরক্ষিত রাখে: চালাজা শুধু ডিমের একটি স্বাভাবিক অংশই নয়, ডিমের সতেজতা সম্পর্কেও ধারণা দেয়। সাধারণত তাজা ডিমে চালাজা স্পষ্ট ও শক্ত অবস্থায় দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিম পুরোনো হলে এই অংশটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায় এবং কম দৃশ্যমান হয়। তাই ডিম ভাঙার পর যদি কুসুমের পাশে পরিষ্কারভাবে সাদা সুতোর মতো অংশ দেখতে পান, তবে সেটি অনেক ক্ষেত্রেই ডিমটি তুলনামূলকভাবে তাজা হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
কখন সতর্ক হতে হবে: চালাজা দেখে ডিম নষ্ট হয়েছে বলে ভাবার প্রয়োজন নেই। তবে যদি ডিম থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, সাদা অংশ অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হয়ে যায় বা কুসুমের রং ও গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়; তাহলে ডিমটি ব্যবহার না করাই ভালো।
অযথা ফেলে না দেওয়া: ডিম ভাঙার সময় কুসুমের পাশে সাদা সুতার মতো অংশটি দেখলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি ডিমের স্বাভাবিক গঠনেরই একটি অংশ- যা কুসুমকে সুরক্ষিত রাখে এবং অনেক সময় ডিমের সতেজতারও ইঙ্গিত দেয়। তাই চালাজা তুলে ফেলার বা ডিম ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিশ্চিন্তে রান্না করে খেতে পারেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএমএএ/আপ্র/১৩.০৭.২০২৬