টানা প্রায় এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর বান্দরবানের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তবে ঘরে ফিরে অনেকেই পেয়েছেন কাদামাটি, নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও ধ্বংসস্তূপ। ফলে পানি কমলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
টানা কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও বসবাসের উপযোগী করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
এদিকে কয়েক দিন কর্মহীন থাকায় দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষের সামনে দেখা দিয়েছে তীব্র অর্থসংকট। ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি সংসারের ব্যয় নির্বাহও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি নেমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে লামা-আলীকদম অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, থানচি-আলীকদম ও লামা-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে এখনো যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ধসে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন করে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার বন্যাকবলিত হয়। এ দুর্যোগে পাহাড়ধসে পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে একজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়ে জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বুলবুল আকতার সেতু জানান, বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, নগদ অর্থ ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।
এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সানিউল ফেরদৌস জানান, এ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আরো সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসি/আপ্র/১৪/০৭/২০২৬