বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের হারের পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। এবার সেই বিতর্কে সরব হয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। তার দাবি, রেফারির সিদ্ধান্তের কারণেই নরওয়ের সম্ভাব্য জয় হাতছাড়া হয়েছে।
কোয়ার্টার-ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথম বিতর্কটি তৈরি হয় ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোল ঘিরে। নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলোাদের গোলকিক থেকে বল মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় স্টেডিয়ামের স্কাই ক্যামেরার তারে স্পর্শ করে। এরপর ইংল্যান্ড দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত জুড বেলিংহ্যাম গোল করে সমতা ফেরান।
গোলের পর নরওয়ের গোলরক্ষক, আর্লিং হলান্ড এবং দলের কোচ রেফারির কাছে আপত্তি জানালেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি।
দ্বিতীয় বিতর্কটি হয় দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে। কর্নার থেকে বল জালে পাঠান নরওয়ের ডিফেন্ডার তুরবিয়ন হেইগ্যাম। তবে কর্নার নেওয়ার আগেই আর্লিং হলান্ড ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছেন-এমন সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। গোলটি স্বীকৃতি পেলে নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেত।
এই দুই সিদ্ধান্ত নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড।
এক সাংবাদিকের পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন, “রেফারির কল্যাণে ইংল্যান্ড বেঁচে গেছে। আশা করি, তোমরা এখন বিশ্বকাপ জিতবে। তবে আজ মনে হচ্ছে, আমাদের জয় যেন লুট করে নেওয়া হয়েছে।”
আরেকটি পোস্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, “সাবাশ বেলিংহ্যাম, সাবাশ রেফারি।”
তবে বাবার মতো তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাননি আর্লিং হলান্ড। ম্যাচ শেষে তিনি রেফারিং নিয়ে সরাসরি অভিযোগ না করলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
নরওয়ের অধিনায়ক বলেন, “ইংল্যান্ডে বড় মাপের খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক বেশি। এমন সিদ্ধান্ত অনেক সময় তাদের পক্ষেই যায়। আমি যখন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলি, তখনও এমন সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেই এসেছে।”
ইংল্যান্ডের জয় এবং বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক বিতর্ক।
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬