বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে আসরের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ, অন্যদিকে সবচেয়ে দৃঢ় রক্ষণ। এমন লড়াইয়ের আগে স্পেনকে যথেষ্ট সম্মান দিলেও তাদের ভয় পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফরাসি ডিফেন্ডাররা।
বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই রাত ১টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমি-ফাইনাল।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের গতিময় আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, স্পেন ছয় ম্যাচে করেছে ১১ গোল। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি স্প্যানিশরা।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনাল এবং ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। ইউরোতে শিরোপাও জিতেছিল তারা।
তবে অতীতের ফল নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন ফ্রান্সের সেন্টার-ব্যাক ইব্রাহিমা কোনাতে।
তিনি বলেন, “কাউকে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেব এবং আশা করি ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষেই যাবে।”
স্পেনের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকার কথাও জানান কোনাতে।
তার ভাষায়, “স্পেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভরপুর একটি দল। আমরা শুধু একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবছি না। লামিন ইয়ামাল অবশ্যই অসাধারণ প্রতিভাবান, তবে তাদের পুরো দলই শক্তিশালী।”
ফ্রান্সের রক্ষণভাগে দাইয়ো উপামেকানো ও উইলিয়াম সালিবার সঙ্গে জায়গার লড়াইয়ে থাকা কোনাতে বলেন, দলটি আত্মবিশ্বাসী হলেও বাড়তি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চায় না।
তিনি বলেন, “আমরা বিনয়ী থাকতে চাই। পরিসংখ্যান বা অতীতের সাফল্যের ফাঁদে পা দিতে চাই না।”
স্পেনকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার মাক্সোস লাকোয়াও।
তিনি বলেন, “আমি ‘ভয়’ শব্দটি ব্যবহার করব না। তবে তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি সচেতন। কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে ড্র ছাড়া তারা সব ম্যাচ জিতেছে। তাদের দলে উচ্চমানের অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। আমরা তাদের সম্মান করি, কিন্তু মাঠে নামব জয়ের লক্ষ্য নিয়েই।”
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখনো প্রত্যাশিত সংখ্যক গোল না পেলেও তার নৈপুণ্য নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স।
লাকোয়া বলেন, “আমরা রক্ষণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেব। লামিন খুবই ভালো একজন খেলোয়াড় এবং এই বিশ্বকাপে সে দেখিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পারে। তাকে থামাতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা সেটাই করব।”
বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে তাই আক্রমণ বনাম রক্ষণের এক জমজমাট দ্বৈরথের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬