একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিভাগে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক করা হয়েছে ৪৩৪ জনকে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১২০ জনকে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৩৪ জনের মধ্যে ৩৭২ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৭৩, কক্সবাজারে ৩২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯, চাঁদপুরে ৬৯, নোয়াখালীতে ৯১, ফেনীতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ৯৫, রাঙামাটিতে ১৬ এবং খাগড়াছড়িতে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিয়মিত মামলায় ৮৪, পূর্ববর্তী মামলায় ৫৭, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ৩২, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাত এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ১২৮ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৯ জন এবং মাদক মামলায় ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী ও ৫৭ জন মাদকসেবী।
নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় আরো ৬১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারের সংখ্যা ১২০ জন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অর্থদণ্ড করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৪৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে ২ হাজার ৭৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯০ কেজি ৪২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫ লিটার চোলাই মদ, ৯০ বোতল বিয়ার, ৫৮ বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৭ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ছোট পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে চার, কুমিল্লায় দুই, নোয়াখালীতে পাঁচ, ফেনীতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/১০/২০২৬