ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনের ব্যবধানে আবারো কুশ নামের অপ্রচলিত মাদক উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার দুজন হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আবদুল রহমান, বয়স ৪৬ বছর, ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি, বয়স ৪৫ বছর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা ওই দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রিন চ্যানেলে পৌঁছালে তাঁদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সদস্য ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে থাকা ট্রলি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে কাপড়ের নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি ও তিনটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
১০ দিনে চার চালান: জালাল বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে কুশের একের পর এক চালান আটকের ঘটনা ঘটছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারটি পৃথক চালানে মোট ১৭ কেজি ৫২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব ঘটনায় মোট পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল থেকে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিক আকাশ দুবে ও আকাশ পাণ্ডের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তাঁরা বিমানবন্দরে ট্রলি ও পাসপোর্টের ফটোকপি রেখে পালিয়ে যান। তাঁদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
এরপর ২২ আগস্ট ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে ৩ কেজি কুশসহ গ্রেফতার করা হয়। তাঁর ট্রলি ব্যাগে কাপড়ের নিচে লুকানো অবস্থায় মাদকটি পাওয়া যায়।
এর দুই দিন পর ২৪ আগস্ট ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশসহ পশ্চিমবঙ্গের দুই নাগরিক সানোয়ার আলী ও ইমতিয়াজ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তিন লিটার মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়িও জব্দ করা হয়।
সর্বশেষ ৫ কেজি ১২০ গ্রামসহ চারটি চালানে মোট ১৭ কেজি ৫২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার হলো। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।
কুশ কী: শকে অত্যন্ত ক্ষতিকর কৃত্রিম মাদক হিসেবে বর্ণনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট সূত্র। সাধারণ গাঁজা বা মারিজুয়ানার তুলনায় এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদানের সঙ্গে কৃত্রিম রাসায়নিক, কৃত্রিম ক্যানাবিনয়েড ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য মিশিয়ে এ ধরনের মাদক তৈরি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে পরপর কয়েকটি চালানে কুশ আটকের ঘটনায় মাদকটির আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরো সতর্ক হতে হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কোনো চক্র জড়িত কি না-এসব বিষয়ও মামলার তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬