চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে উদ্ধারের পরও তাঁদের হঠাৎ আত্মগোপনে যাওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঋণগ্রস্ততা ও দেনার দায়ের কথা জানালেও কেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পিন্টু দাস জানিয়েছেন, তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং দেনার দায়ে ছিলেন। তবে মূলত কী কারণে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো পুরোপুরি মুখ খোলেননি।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত কারণ জানতে পিন্টু দাসকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আপাতত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার দেখানো হবে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে পিন্টু দাসের মুঠোফোন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একই সময়ে তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাঁদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে।
শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক গাজী কালাম।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিন্টু দাসের আত্মগোপনের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না, তা জানতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি দল চাঁদপুরে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
পুলিশের ভাষ্য, শুধু ঋণগ্রস্ততা ও দেনার চাপই তাঁর আত্মগোপনের কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে হঠাৎ মুঠোফোন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের পর তাঁদের আত্মগোপনে যাওয়ার কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেনা-পাওনা ও ঋণের বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে কোনো গুরুতর অভিযোগ বা অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬