শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সব পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো অতি সংবেদনশীল খাতকে বিদেশ-নির্ভর না রেখে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটের একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় তিন শতাধিক যুব প্রতিনিধি অংশ নেন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ভারতের ক্ষেত্রে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করার যে ঘোষণা সরকার দিয়েছে, তা তিনি স্বাগত জানান। তবে শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, সব পরাশক্তির সঙ্গে জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশবিরোধী সব অপপ্রচার ও অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
জনজীবনের জরুরি সংকটের কথা তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পর এখন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে মানুষ এখন আর কোনো অজুহাত শুনতে চায় না। সরকারকে মানুষের জানমাল এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁর মতে, দ্রুত অসহনীয় বেকারত্বের অবসান না হলে সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অপরাধপ্রবণতা আরো বাড়তে পারে। দেশের বিশাল যুবশক্তির সম্ভাবনা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো মানুষ খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জ্বালানি খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো অতি সংবেদনশীল খাত কোনোভাবেই বিদেশ-নির্ভর রাখা যাবে না। জাতীয় স্বাবলম্বিতার নীতিতে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে সমুদ্র ও ভূখণ্ডে নিজেদের জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, বাস্তব কাজের মাধ্যমে সরকারকে নিজেদের দায়িত্বের প্রমাণ দিতে হবে। আওয়ামী লীগের মতো আর কেউ যেন জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়, সে ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের যেকোনো অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুবসমাজকে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুব সংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, বিপ্লবী যুব সংহতির সংগঠক অকালপ্রয়াত শিবু মোহান্ত এবং নেপালে বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
যুবনেতা তুহিন রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান, বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক আউয়াল মাহমুদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব সংগঠক ইব্রাহিম হোসেন রনি।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬