বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ‘গুম’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে অনিচ্ছাকৃত ভুল দাবি করে তা সংশোধন করেছেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ভুল স্বীকার করেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছিলেন, ‘বিএনপি সরকারের ছয় মাসে ৫১২ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন।’ তাঁর ওই ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বক্তব্যটি উদ্ধৃত করে বিএনপি সরকারকে ‘গুমের সরকার’ হিসেবে প্রচার করতে থাকেন। বিএনপি নেতারাও হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে সমালোচনা করেন।
তবে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের ছয় মাসে গুমের অভিযোগ রয়েছে মাত্র একটি ঘটনার।
বিএনপির পাল্টা সমালোচনা
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, গুমের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়া মিথ্যাচারের শামিল। তাঁর দাবি, হামিদুর রহমানের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
রাশেদ খাঁন আরো বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য তার উদাহরণ। তাঁর ভাষ্য, ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের বক্তব্যেও অপতথ্য রয়েছে।
আইনের আওতায় আনার দাবি
হামিদুর রহমান আযাদকে গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার দায়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত নেতা কোন সংস্থার জরিপ বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫১২ জন গুম হওয়ার তথ্য দিয়েছেন এবং ওই ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের তথ্য কোথায়। তাঁর দাবি, হামিদুর রহমানের কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। আর তথ্য-প্রমাণ না থাকলে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আবু হানিফ আরো বলেন, বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করতে পারে। তাই বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
‘অপহরণ’ বলতে গিয়ে ‘গুম’ বলেছি
সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার বিকালে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে গত ছয় মাসে বর্তমান সরকারের সময়ে হামলা-মামলা, জুলুম-নির্যাতন, গুম ও খুনের পরিসংখ্যান তুলে ধরার সময় একটি তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তিনি জানান, শব্দগত ভুলের কারণে ‘অপহরণ’-এর স্থলে ‘গুম’ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছিল। পরে বিষয়টি যাচাই করে তিনি অসঙ্গতিটি বুঝতে পারেন। তাঁর দাবি, ভুলটি পুরোপুরি অনিচ্ছাকৃত এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই তথ্য আমলে না নেওয়ার ও এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি ৫১২টি অপহরণের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন। এ তথ্যের সূত্র হিসেবে তিনি ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ৫১২টি অপহরণের ঘটনা সঠিক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনেও এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে ‘গুম’ ও ‘অপহরণ’—দুটি ভিন্ন ঘটনার তথ্য এক করে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৫/৮/২০২৬