সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকা গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার পাশাপাশি সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার পথে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা। একই সঙ্গে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। বেলা সোয়া ১২টায় শুরু হয়ে সভা শেষ হয় দুপুর ২টায়।
সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, সম্পাদকেরা বিরোধী দলকে গঠনমূলকভাবে সরকারের সমালোচনা করার এবং জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আগের বিরোধী দলগুলোর মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস কোনো পথে গিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল না করার পরামর্শও তাঁরা দিয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো কোনো সম্পাদক জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সহযোগিতাও কামনা করেছেন। তিনি বলেন, সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা এবং বিরোধিতার জায়গায় বিরোধিতা করে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে বিরোধী দলের যে ভূমিকা, সম্পাদকেরা তার প্রশংসা করেছেন।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সৃষ্ট সংকট এবং এর উত্তরণে সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের করণীয় নিয়েও তিনি কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে-সভায় সম্পাদকদের তা জানানো হয়েছে। প্রথাগত বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে যে নেতিবাচক ও সহিংস সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ করার নীতিতে জামায়াত অটল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য, শফিকুর রহমান সম্পাদকদের বলেছেন, সব অন্যায় ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
গণভোটের রায় নিয়ে অনড় অবস্থান: মতবিনিময় সভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে ১১-দলীয় ঐক্য তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। সংসদে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে ভালো; তা না হলে তাঁরা রাজপথে থাকবেন।
তিনি বলেন, উন্নয়নকাজে বরাদ্দ দেওয়া, সংসদে কথা বলা, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি দলের কাছ থেকে ‘ইনসাফ’ না পাওয়ার বিষয়টি শফিকুর রহমান সভায় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সত্য তুলে ধরতে সম্পাদকদের লেখনীর মাধ্যমে সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেশ যেভাবে অস্থিতিশীল হয়েছে, সম্পাদকেরা সে ইতিহাসও স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
গণমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব নেই বললেন পরওয়ার: সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো দূরত্ব রয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা মনে করেন না যে গণমাধ্যমের সঙ্গে জামায়াতের কোনো দূরত্ব আছে। তিনি বলেন, সাধ্য অনুযায়ী তাঁরা যোগাযোগ ও সহযোগিতার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং সম্পাদকদের সঙ্গে এ দিনের বৈঠকও সেই প্রচেষ্টার অংশ।
মতবিনিময় সভায় সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দৈনিক ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, দ্য ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরিফ, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য নিউ নেশনের মো. মোকাররম হোসেন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, দৈনিক করতোয়ার মোজাম্মেল হক, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন ও মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলামসহ অনেকে।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো তাহের ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৮/২০২৬