দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৯ জনে। এর বাইরে শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরো ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের (২৪ আগস্ট) বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৯ জন রোগী গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন করে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২১ জন।
এ সময়ে নমুনা পরীক্ষায় আরো ৮৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের একটি ছোট অংশেরই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে হামের প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ বিভাগে ৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছেন ১৪১ জন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৪ জন, রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৪৯, খুলনায় ৩৩ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরো ৯৯ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৯৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৮/২০২৬