২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হুমকি, মারধর এবং দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আরমান উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরমান। তিনি দাবি করেছেন, গত ৭ আগস্ট থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে রয়েছেন।
লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজানের প্রবাসী আমির হোসেন রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি করেন। বাদীর আইনজীবী কবির জিলান জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. আরমানের ভাই মো. আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, মোহাম্মদ আদিলো, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় আমির হোসেন ২০০৬-০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্যান্য অংশে ভাড়াটিয়া রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আরমান মুঠোফোনে তাঁকে তাঁদের কথামতো চলতে বলেন এবং তাঁদের এলাকায় বসবাস করতে হলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে ঘর ও দোকান দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আসামিরা আমির হোসেনের ভবনের নিচতলায় ভাড়া দেওয়া আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ২৫টি আলমারি, আলমারি তৈরির শিট, দোকানের আসবাবপত্র এবং নগদ সাড়ে ১১ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানটিতে আবার তালা লাগিয়ে দিয়ে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ঘরভাড়া তাঁদের কাছে দিতে বলা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমির হোসেনের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর দেশে ফিরে তিনি থানায় বিষয়টি জানালেও পুলিশ মামলা নেয়নি। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট সকালে তিনি ভবনে গেলে আসামিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেখানে আবারো ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আদিলোসহ কয়েকজন তাঁকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আরমান মুঠোফোনে তাঁকে হুমকি দেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ওই ঘটনার পরও লোহাগাড়া থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদালত সাতকানিয়া সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
‘প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করুন’: অভিযোগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়ে মো. আরমান বলেন, বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাঁর দাবি, গত ৭ আগস্ট থেকে তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে থাকায় ২০ আগস্ট আমির হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভবনে বৈঠক করার প্রশ্নই ওঠে না।
আরমান প্রশ্ন তোলেন, ৩ এপ্রিল তিনি আমির হোসেনকে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে থাকলে সেই কথোপকথনের কলতালিকা, কল রেকর্ড বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হোক। একইভাবে ২০ আগস্ট তিনি আমির হোসেনকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন-এমন অভিযোগের পক্ষেও প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
আরমান আরো বলেন, বাদী যদি দাবি করেন যে তিনি বা তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন, তাহলে তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কাউকে আগে বিষয়টি জানিয়েছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, আমির হোসেনকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাঁর সঙ্গে কখনো দেখা, কথা বা কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে বলেও তাঁর জানা নেই। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে আরমান বলেন, প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলে নিজের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
মামলার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৮/২০২৬