গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

নুসরাত হত্যা মামলার আপিল রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের বহাল

ঢালাও মৃত্যুদণ্ডে বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৯ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৩ এএম ২০২৬
ঢালাও মৃত্যুদণ্ডে বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহার
ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা -ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ বা বিচারিক বিবেচনাহীন দণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই রায় দেওয়া তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের ফৌজদারি মামলার বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক মামুনুর রশিদ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে ফৌজদারি মামলার বিচার থেকে বিরত রাখতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর টানা ১৭ দিনের শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

যাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে, তাঁরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তাঁর সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছিল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে ওই রায়ে বিচারিক মন প্রয়োগের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, ফরিদ উদ্দিন খান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিপন, এম ডি রেজাউল করিম, বেলায়েত হোসেন, তাহামিনা তানজিম, দেব দুলাল বরালসহ অনেকে।

বিচারকের বিচারিক মন নিয়ে পর্যবেক্ষণ: অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কোনো মামলায় দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন বিচারকের যে ধরনের বিচারিক মন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বিচারক মামুনুর রশিদ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তবে এ পর্যবেক্ষণ নির্দিষ্ট ওই বিচারকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; এটি সব বিচারকের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয় বলেও জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ও বিবেচনা করবে। বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারককে নির্ভীকভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাইরে কে কী বলল বা কোনো বিষয় কীভাবে উপস্থাপিত হলো, সে কারণে বিচারকের রায় প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।

নুসরাত হত্যার পটভূমি: ২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল নুসরাতের। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা এ ঘটনায় মামলা করার পর ২৭ মার্চ পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতার করে।

সিরাজ গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তৎপরতা শুরু হয়। মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থীও তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়। মামলা তুলে নিতে নুসরাতকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। 
নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুই দিন পর তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকায় আনা হয়েছিল, তখনও তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর ওপর নির্মম হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতের সেই বহুল আলোচিত রায়ের বড় ধরনের পরিবর্তন হলো। 
সানা/আপ্র/২৪/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে: আইনমন্ত্রী
২৪ আগস্ট ২০২৬

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন...

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
২৪ আগস্ট ২০২৬

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাই...

স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়ে কারাগারে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি
২০ আগস্ট ২০২৬

স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়ে কারাগারে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়ে প্যারোলে মুক্তির ১২ ঘণ্টা শেষ হওয়ায় আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে কার্যক্...

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে