সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যায়। মনে হয় জিভ যেন তালুর সঙ্গে আটকে আছে, কথা বলতেও অস্বস্তিবোধ করেন অনেকে। নানা কারণে সকালে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে প্রভাব পড়তে পারে দাঁত ও মাড়ির ওপরও। প্রতিদিন ঘুম ভাঙার পর যদি মুখ একেবারে শুকনো লাগে, তাহলে চিন্তার বিষয়। যেসব কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে তা হলো-
ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ: রাতে ঘুমানোর সময় স্বাভাবিকভাবেই লালা তৈরির পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। এর সঙ্গে যদি মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা ঘরের বাতাস শুষ্ক থাকার বিষয়টি থাকে, তাহলে সকালে মুখ আরো শুকনো লাগতে পারে।
মুখ হাঁ করে ঘুমানো: নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি কিংবা নাক ডাকার কারণে অনেকেই ঘুমের মধ্যে অজান্তেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। রাতভর মুখ দিয়ে বাতাস চলাচল করায় মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। তাই সকালে ঘুম ভাঙার পর জিভে শুষ্কতা বা অস্বস্তি বেশ স্বাভাবিক।
পানি কম পান করা: দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মুখের লালা তৈরিতেও। ফলে ঘুম থেকে উঠে তীব্র তৃষ্ণা ও মুখ শুকনো লাগতে পারে।
ওষুধের প্রভাব: কিছু অ্যালার্জির ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। নিয়মিত কোনো ওষুধ খাওয়ার পর থেকে এমন সমস্যা শুরু হলে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা ভালো।
শারীরিক কিছু সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে: দীর্ঘস্থায়ী মুখ শুষ্কতার সঙ্গে ডায়াবেটিসসহ কিছু শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন সকালে একই সমস্যা হলে কারণটি খুঁজে দেখা জরুরি।
এসির বাতাস: অনেকক্ষণ এসি চললে ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এ কারণে সকালে মুখ, নাক বা গলা শুকনো লাগতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ঘরের আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখা কিছুটা আরাম দিতে পারে।
দাঁত-মাড়ির জন্য ক্ষতিকর: মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না। এটি দাঁত ও মাড়ির স্বাভাবিক সুরক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন লালা কমে গেলে দাঁতে ক্যাভিটি, মাড়ির সমস্যা ও মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে; এমনকি খাবার চিবানো বা গিলতেও অস্বস্তি হতে পারে।
অন্যান্য অভ্যাস: রাতে ঘুমানোর আগে ধূমপান বা চা-কফি ও অ্যালকোহল পান করলেও মুখ শুষ্ক হয়। তাই ঘুমানোর আগে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রতিকারে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে গেলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিই সব সমস্যার সমাধান নয়। নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে সমাধান করাই জরুরি। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুম ভাঙার পর মুখ শুকনো লাগা স্বাভাবিক হলেও প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেলে সেটিকে শুধু এসির বাতাস ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
সতর্কতা: মাঝে মধ্যে সকালে মুখ শুকিয়ে গেলে পানি পান করা ও ঘরের বাতাসের আর্দ্রতার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই সমস্যা চলতে থাকলে, অথবা এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বারবার প্রস্রাব, নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
লেখক: সাংবাদিক
কেএমএএ/আপ্র/২৪.০৮.২০২৬