গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

বিশেষ সম্মানের প্রতীক বিয়েতে জামাইকে আস্ত খাসি দেওয়া

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৭ এএম ২০২৬
বিশেষ সম্মানের প্রতীক বিয়েতে জামাইকে আস্ত খাসি দেওয়া
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিয়ে শুধু দুই মানুষের নতুন জীবনের শুরু নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুই পরিবারের আনন্দ, আতিথেয়তা ও নানা সামাজিক রীতি। বাঙালি সমাজে বরকে বিশেষভাবে আপ্যায়নের চলও বেশ পুরোনো। কনের বাড়িতে বরযাত্রীর আগমন থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন- সবকিছুতেই থাকে ‘জামাই আদর’এর ছাপ। এই আপ্যায়নের তালিকায় কখনও থাকে পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মাছ-মাংস, মিষ্টি ও ফল। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে বরের জন্য সাজানো হয় বড় ডালা বা থালা। কোথাও ওই ডালায় থাকে খাসির মাংস, কোথাও আবার আস্ত খাসি কিংবা খাসির মাথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো ‘নতুন জামাইকে আস্ত খাসি দেয়ার এই রীতি কেন?’

বাঙালি সমাজে বর বা জামাইকে বিশেষভাবে আপ্যায়নের রীতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে ও ভিন্ন আয়োজনে দেখা যায়। কোথাও বড় থালা, কোথাও ডালা বা বিশেষ পাত্রে করে বরের জন্য নানা ধরনের খাবার সাজিয়ে দেওয়া হয়। এর নির্দিষ্ট কোনো সর্বজনীন খাবারের তালিকাও নেই। সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মাছ, মাংস, মিষ্টি ও ফলের মতো নানা পদ থাকে। অনেক পরিবারে আবার ১০-১৫ বা তারও বেশি পদ সাজিয়ে দেওয়ার রীতিও দেখা যায়। মূল বিষয় খাবারের সংখ্যা নয়; বরং বর ও বরপক্ষের প্রতি সম্মান ও আতিথেয়তা প্রকাশ করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

আস্ত খাসির এত কদর কেন: বাঙালির বিভিন্ন উৎসব ও সামাজিক আয়োজনে খাসির মাংস দীর্ঘদিন ধরেই মর্যাদাপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত; বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সমাজে বিয়ে, মেজবানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে খাসির মাংসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বর ও বরযাত্রীদের আলাদা সম্মান দেখানোর অংশ হিসেবে অনেক এলাকায় পোলাওয়ের সঙ্গে খাসির মাংস পরিবেশন করা হয়। কোথাও বড় ডালা বা থালায় মাংস সাজিয়ে দেওয়া হয় আবার কোথাও আস্ত খাসির মাথা কিংবা বড় মাংসের টুকরা পরিবেশন করা হয়। ফলে আস্ত খাসি দেওয়া অনেক পরিবারের কাছে নিছক খাবার নয়, বরং বিশেষ সম্মান ও সামর্থ্য প্রদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে এই রীতির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক সাল বা একক উৎসের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক আতিথেয়তা, আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও পারিবারিক রীতির মধ্য দিয়ে এটি গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।

‘জামাই আদর’ থেকে জমকালো আয়োজন: বাংলার সামাজিক সংস্কৃতিতে জামাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বহু পুরোনো। পান-সুপারি, মিষ্টি, শরবতসহ বিভিন্ন উপহার ডালা বা ঝুড়িতে করে দেওয়ার প্রচলন ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই ডালার আয়োজনও বড় হয়েছে। সাধারণ উপহারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের খাবার। বিয়ের মতো বড় সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবারের সামর্থ্য ও আতিথেয়তা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই খাবারের আয়োজন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরের জন্য সাজানো ডালায় খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্যও বেড়েছে।

সব অঞ্চলে আস্ত খাসি দেওয়া হয় না: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিয়ের রীতিতে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। কোথাও খাসির মাংসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় আবার কোথাও মাছ, মিষ্টি বা অন্য কোনো খাবারকে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় বরের জন্য বড় থালা বা ডালায় খাবার পাঠানোর রীতিকে ‘সাগরানা থালা’, ‘সাগরানা’ কিংবা ‘ছদরি খানা’সহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। নাম ও খাবারের ধরন আলাদা হলেও মূল উদ্দেশ্য একই—বরকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা। আধুনিক সময়ে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাবার পরিবেশনের নান্দনিকতাও। পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব, মাছ-মাংস, জর্দা, মিষ্টি ও ফল দিয়ে সাজানো বড় ডালা এখন অনেক বিয়ের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।

রীতি এখন সামাজিক চাপ: ‘জামাই আদর’ বাঙালি সংস্কৃতির আনন্দময় একটি অংশ হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ রীতিই পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। জামাই ভোজে অনেক পদ থাকতেই হবে, খাসি না হলে সম্মান থাকবে না কিংবা অন্য পরিবারের চেয়ে বড় আয়োজন করতে হবে- এমন ধারণা অনেক পরিবারকে সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করতে বাধ্য করে। কে কত বড় ডালা দিলেন, কত ধরনের মাংস দিলেন বা কত দামি খাবারের আয়োজন করলেন-এসব দিয়ে যদি পারিবারিক মর্যাদা বিচার করা হয়, তাহলে সম্পর্কের জায়গায় তৈরি হতে পারে হিসাব-নিকাশের মানসিকতা। অথচ বিয়ের মূল সৌন্দর্য থাকার কথা পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে।

শেষ পর্যন্ত ‘জামাই ভোজ ডালা’ কিংবা আস্ত খাসি দেওয়ার মতো রীতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বর ও বরপক্ষকে সম্মান জানানো, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং দুই পরিবারের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা। খাবারের পরিমাণ বা দামের মাধ্যমে সেই সম্মানের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। অর্থাৎ নতুন জামাইকে আস্ত খাসি দেওয়ার রীতির পেছনে মূলত রয়েছে আতিথেয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও ভালোবাসা প্রকাশের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। তবে ওই সংস্কৃতির সৌন্দর্য তখনই বজায় থাকে- যখন আনন্দ ও সম্মানের অংশ হয়; অধিকার, দাবি বা সম্পর্কের শর্ত হয়ে ওঠে না।

কেএমএএ/আপ্র/২৪.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দাম্পত্য বিচ্ছেদে মা-বাবা গুছিয়ে নিলেও সন্তানের জীবন হয় এলোমেলো
২৪ আগস্ট ২০২৬

দাম্পত্য বিচ্ছেদে মা-বাবা গুছিয়ে নিলেও সন্তানের জীবন হয় এলোমেলো

একটি পরিবারের ভাঙন কেবল দুজনের সম্পর্ক সমাপ্তি নয়; এর প্রভাব পড়ে সন্তানের মনোজগৎ, আচরণ, ভবিষ্যতের সম...

সুযোগ খুঁজতে থাকা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য ‘সস্তা ফ্লাইট দিবস’
২৪ আগস্ট ২০২৬

সুযোগ খুঁজতে থাকা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য ‘সস্তা ফ্লাইট দিবস’

গ্রীষ্মের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শেষ হয়ে শুরু হয় তুলনামূলক শান্ত শরৎ। পর্যটকের ভিড় কমে, অনেক গন্তব্যে আব...

নিজের আনন্দে অন্যের ক্ষতি ফেসবুকে হাতকড়া পরা ছবির ট্রেন্ড
২৪ আগস্ট ২০২৬

নিজের আনন্দে অন্যের ক্ষতি ফেসবুকে হাতকড়া পরা ছবির ট্রেন্ড

ফেসবুক খুললেই চোখে পড়ে অদ্ভুত এক দৃশ্য- কেউ পুলিশের হাতে হাতকড়া পরা, কাউকে আবার পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছ...

কাউকে দূরে রাখতে তরুণদের নীরব কৌশল জনপ্রিয় ‘সফট ব্লকিং’
২৪ আগস্ট ২০২৬

কাউকে দূরে রাখতে তরুণদের নীরব কৌশল জনপ্রিয় ‘সফট ব্লকিং’

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি ব্লক না করেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে দূরে রাখা যায়। ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে