পা ফুলে যাওয়াকে অনেকেই অতিরিক্ত হাঁটাচলা কিংবা আঁটসাঁট জুতার সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। অনেক রোগী পা ফুললেই কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব সময় পা ফোলার সঙ্গে কিডনির সরাসরি যোগ নাও থাকতে পারে। এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদরোগ বা রক্তনালির মতো জটিল শারীরিক সমস্যা।
পা ফোলার প্রধান কারণগুলো হলো-
ভেনাস ইনসিফিশিয়েন্সি: পায়ের শিরার মধ্য দিয়ে দূষিত রক্ত ঠিকমতো হার্টে ফিরে না গিয়ে উল্টা পথে প্রবাহিত হয়ে পায়ে জমতে শুরু করলে পা ফুলে যায়। ট্রাফিক পুলিশ বা শিক্ষকদের মতো যাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মাধ্যাকর্ষণের টানে রক্ত পায়ের নিচের দিকে এসে জমা হয়।
হার্ট ফেইলিওর: দুর্বল হৃদযন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শিরায় রক্ত জমে চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে তরল পদার্থ আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে ‘এডিমা’ বলা হয়। এই কারণে পায়ের নিচের অংশ, গোড়ালি ও পাতা অস্বাভাবিক ভাবে ফুলতে শুরু করে।
কিডনির সমস্যা: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে টিস্যুগুলোতে তরল জমতে শুরু করে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে পায়ে।
ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস: শিরায় রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে রক্ত নিচের অঙ্গগুলোতে আটকে যায়। অবহেলা করলে এই জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে ‘পালমোনারি এমবোলিজম’-এর মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধের প্রভাবেও পায়ে ও গোড়ালিতে ফোলা ভাব (পেরিফেরাল এডিমা) দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামলোডিপিনের মতো উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, আইবুপ্রোফেনের মতো বেদনানাশক, পিয়োগ্লিটাজোনের ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং প্রেডনিসোনের মতো স্টেরয়েড।
লিভারের সমস্যা: লিভারে অ্যালবুমিন প্রোটিনের উৎপাদন কমে গেলে রক্তনালী থেকে তরল চুয়ে আশেপাশের টিস্যুতে জমা হয়
কখন ডাক্তারের যেতে হবে: সাধারণত দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে সাময়িকভাবে পা ফুলতে পারে- যা বিশ্রাম নিলে কমে যায়। তবে যদি হঠাৎ করে বা তীব্রভাবে পা ফুলে যায়, শুধু একটি পা ফুলে যায় বা পায়ে ব্যথা ও লালচে ভাব হয়, ফোলাভাবের সাথে বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকে; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতা: বারবার পা ফুলে গেলে বিষয়টিকে সামান্য সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এর পেছনে থাকা কারণ চিহ্নিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সাধারণ মনে হওয়া পা ফোলার এই উপসর্গের নেপথ্যে থাকতে পারে কিডনি, হৃদ্যন্ত্র কিংবা শিরায় রক্ত চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক জটিলতা।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/২৮.০৮.২০২৬