গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

মেনু

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসবে শঙ্কামুক্ত জীবনের প্রত্যাশা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩৫ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০২:৫৩ এএম ২০২৬
রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসবে শঙ্কামুক্ত জীবনের প্রত্যাশা
ছবি

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রাজধানীর রমনার বটমূলে গান ও কবিতার সুরে বরণ করা হলো বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ -ছবি সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রাজধানীর রমনার বটমূলে গান ও কবিতার সুরে বরণ করা হলো বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পূর্ব আকাশ রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়লেও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আলো ছিল নরম ও শান্ত। এমন পরিবেশে শতাধিক শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয় ‘জাগো আলোক লগনে’ গানটি। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ আয়োজন।

গানটিতে কণ্ঠ দেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্ত দেব ও সমুদ্র শুভম। গানের কথা অজয় ভট্টাচার্য এবং সুর ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়। সকাল আটটা পঁচিশ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এবারের আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

ভোর থেকেই রমনার বটমূলে ভিড় জমাতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বটমূল ও পার্ক এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিকাংশ দর্শনার্থীর পরনে ছিল লাল ও সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।

সম্মিলিত সংগীতের পর একক পরিবেশনায় ‘এ কি সুগন্ধ হিল্লোল বহিল’ গান পরিবেশন করেন মাকছুরা আখতার অন্তরা। এরপর ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো’ গান পরিবেশন করেন আজিজুর রহমান। সেমন্তী মঞ্জুরী গায়েন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাজাও আমারে বাজাও’, বিটু কুমার শীল পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘অরুণকান্তি কে গো যোগী ভিখারি’, আর শ্রাবন্তী ধর গায়েন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘আজি গাও মহাগীত’।

লালন সাঁইয়ের ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’ পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার। সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয় জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের ‘এসো মুক্ত করো’ এবং সলিল চৌধুরীর ‘সেদিন আর কত দূরে’। শিশুদের দল পরিবেশন করে ‘অলস হইওনা ভাই’। এছাড়া খায়রুল আলম আবৃত্তি করেন সলিল চৌধুরীর ‘এক গুচ্ছ চাবি’।

প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে মোট চব্বিশটি গান ও কবিতা পরিবেশিত হয়। শিশু-কিশোরদের গালে আঁকা ছিল নববর্ষের আলপনা। বিদেশি অতিথিরাও উপভোগ করেন পুরো অনুষ্ঠান।

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, অপশক্তি সংস্কৃতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে শিল্প ও সংগীত মানুষের মুক্তির পথ। তিনি বলেন, সবাই যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারে, সংস্কৃতির সব প্রকাশ নির্বিঘ্ন থাকে এবং বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা ও ভয়ের পরিবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই নতুন বছরে মানুষের প্রত্যাশা হওয়া উচিত শান্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপদ সাংস্কৃতিক চর্চা।
সানা/আপ্র/১৪/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমুক্তিতে কাজী নজরুল হয়েছেন মহাবিদ্রোহী
২৮ আগস্ট ২০২৬

দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমুক্তিতে কাজী নজরুল হয়েছেন মহাবিদ্রোহী

৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি===

রোমান্টিক কবিতা
২৮ আগস্ট ২০২৬

রোমান্টিক কবিতা

ভালোবাসার ভাষা কেবল শব্দের নয়, অনুভূতির গভীরতম প্রসববেদনায় জন্ম নেওয়া চিরন্তন এক সুর। এটি হৃদয়ের তার...

পঞ্চাশ বছর পরও অমর নজরুল, আজও জাগানিয়া তাঁর বাণী
২৭ আগস্ট ২০২৬

পঞ্চাশ বছর পরও অমর নজরুল, আজও জাগানিয়া তাঁর বাণী

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, শ্রদ্ধায় স্মরণ

শামসুর রাহমানের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা
২২ আগস্ট ২০২৬

শামসুর রাহমানের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা

আবু আফজাল সালেহ ===  শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯-১৭ আগস্ট ২০০৬) বাংলাদেশের জনপ্রিয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই