যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় রাজধানীসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হিসেবে এই দিনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা গ্রহণ করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে খুতবায় খতিবরা কোরবানির তাৎপর্য এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের আদর্শ তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল সাড়ে ৭টায় বিশেষ জামাতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
নামাজ শেষে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানির কার্যক্রম শুরু করেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পশু জবাই করা হয় এবং মাংস শরিয়ত অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির মধ্যেও জরুরি সেবা যেমন স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, গণমাধ্যম ও ডাকসেবা চালু রয়েছে। রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দেশের কিছু এলাকায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঈদ উদযাপিত হলেও অধিকাংশ স্থানে আজই উৎসব পালন করা হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে এবং সিটি করপোরেশনগুলো বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।
সানা/আপ্র/১/৬/২০২৬