একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে সাগরের চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায় পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে আসা প্রায় ২০ জনের একটি দল জাহাজে উঠে মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে পালিয়ে যায়। কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা সরে পড়ে।
জানা গেছে, সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘তাই শিউয়েন’ হংকং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় ১৫ জুলাই রাতে। সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পাঞ্চলে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জাহাজটি আনা হয়েছিল।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি নোঙর করার কাজে নাবিকরা ব্যস্ত থাকাকালে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে প্রায় ২০ জন জাহাজে উঠে পড়ে। তারা জাহাজের ডেকে থাকা দামি রশি, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।
জাহাজের ইন্দোনেশীয় ক্যাপ্টেন রেডিও নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চোরের দল পালিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
শিপিং এজেন্ট বেনলাইন শিপিংয়ের কর্ণধার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাহাজ নোঙর করার সময় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাঁচটি নৌকায় করে ২০ জনের একটি দল ডেকে উঠে পড়ে। তাদের একদল নোঙর করার কাজে বাধা দেয়, আরেক দল জাহাজের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানালেও নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। প্রায় তিন হাজার টন ওজনের জাহাজে এ ধরনের ছোট দস্যুতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। দস্যুরা মাছ ধরার আড়ালে জাহাজের আশপাশে অবস্থান করে এবং সুযোগ পেলেই জাহাজে উঠে চুরি বা ডাকাতি চালায়। গত এক মাসে তার প্রতিষ্ঠানের তিনটি জাহাজে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার সবগুলোই চার্লি অ্যাংকরেজ এলাকায়। এসব ঘটনায় নাবিক ও শিপিং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
সানা/আপ্র/১৭/৭/২০২৬