অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে তারা বিপুল অর্থের লেনদেন পরিচালনা করতেন। কমিশনের টাকায় দামি গাড়ি ব্যবহার, অভিজাত হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থানসহ বিলাসী জীবনযাপন করতেন তারা।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) এবং মশিউর রহমান তারেক (২০)।
তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার ৬০০টি মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবসংযুক্ত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিমকার্ড, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে চক্রটির গতিবিধি নজরদারির পর বুধবার গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, অবস্থান বারবার পরিবর্তন করে তারা দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের অর্থ লেনদেনে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়। এসব লেনদেন পরিচালনায় প্রায় ২০০টি পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে, যার অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আরিফুল ও তার সহযোগীরা ‘গো পে’ নামে একটি পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক লেনদেন পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। অনলাইন জুয়ার গ্রাহকদের মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরে সেই অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হতো। এরপর ক্রিপ্টো মুদ্রা কিনে বিদেশে থাকা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেতেন আরিফুলরা। ওই কমিশনের অর্ধেক ভেন্ডরদের দেওয়া হলেও বাকি অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কমিশনের অর্থ ছাড়াও আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ তাদের জীবনযাপনের বিভিন্ন ব্যয়ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করত।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে গত এপ্রিলে দুর্ঘটনায় উল্টে যাওয়া নীল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়িটির মালিক ছিলেন আরিফুল। দুর্ঘটনার পর তিনি আরেকটি সাদা রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনে ব্যবহার শুরু করেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আরিফুলকে যে রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে তিনি প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তিনি কখনো ঢাকায়, কখনো গাজীপুরে, আবার কখনো কক্সবাজারের অভিজাত হোটেল ও রিসোর্টে কয়েক দিন অবস্থান করে স্থান পরিবর্তন করতেন। এভাবেই দীর্ঘদিন বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিলাসবহুল গাড়িগুলো উদ্ধারে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৭/৭/২০২৬