আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উত্তেজনার মুহূর্তের তো অভাব ছিল না। তবে একটি ঘটনা সবারই নজর কাড়ে আলাদা করে। জুড বেলিংহ্যাম যখন মুখোমুখি হয়েছিলেন লিওনেল মেসির।
দুই দলের দুই প্রজন্মের দুই তারকাকে দেখা যায় মুখোমুখি হয়ে বেশ উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে। ম্যাচের পর বেলিংহ্যাম অবশ্য দাবি করলেন, খুব গুরুতর কোনো ব্যাপার নয় সেটি।
আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জয়ের এই ম্যাচের প্রথমার্ধের ঘটনা সেটি। মেসির দিকে এগিয়ে কিছু বল থাকেন বেলিংহ্যাম। মেসিও ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি হন।
দুজনের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠছিল, কোনো সৌহার্দ্য বিনিময় হচ্ছে না সেখানে।
ওই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ ও ছবি ক্রমেই ছড়িয়ে পেড় সামাজিক মাধ্যমে। আর্জেন্টিনা ও মেসি ভক্তদের বেশ ক্ষোভের প্রকাশও দেখা যায়।
বেলিংহ্যাম বেশ সাবলীল স্প্যানিশ বলতে পারেন। সেই ভাষাতেই হয়তো কথা হচ্ছিল দুজনের। ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের এই তরুণ তারকা বললেন, তিলকে তাল করা হচ্ছে এই ঘটনায়।
“আমরা আসলে একটা ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তেমন গুরুতর কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত যে সবাই তাদের মতো করে এটাকে বড় করে তুলবে, কিন্তু এটা তেমন কিছুই ছিল না।”
“আমার মনে হয়েছিল একটু আগেই একটা ফাউল হয়েছে। সে বলল: ‘আমাকে যে ফাউল করা হয়েছিল, সেটার কি হবে?’
আমি তখন বললাম, ‘এটা সহ্য করার মতো যথেষ্ট শক্তি আপনার আছে। বুঝতেই পারছেন, আমি কী বলতে চাইছি।”
আগে নানা সময়েই মেসির প্রতি মুগ্ধতার কথা বলেছেন বেলিংহ্যাম।
দুই হাত ছড়িয়ে তার যে চেনা উদযাপন, মেসির উদযাপন থেকেই সেটির ভাবনা এসে বলে জানিয়েছিলেন। এই ম্যাচের পর মেসির প্রতি সেই সম্মান জানালেন ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
“পরাজিত দলে আছি, স্বাভাবিকভাবেই খুব কষ্টদায়ক। কিন্তু সেরাদের একজনের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারাটাও সম্মানের।”
এই ম্যাচের আগে গোটা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই তারকা বললেন, শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে তার।
“হৃদয়বিদারক হার এটি। সেই ইংল্যান্ড দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম আমি, যারা অবশেষে সফল হয়েছে। এখানে দাঁড়িয়ে ভক্তদের সেই একই কথা বলা, যা তারা সম্ভবত বছরের পর বছর ধরে তারা শুনে আসছে, তা সত্যিই বেদনার। আমি দুঃখিত।”
ডিসি/ আপ্র/১৬/০৭/২০২৬