২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের পরাজয়ের রেশ এখনো কাটেনি। ম্যাচের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে চলছে তুমুল আলোচনা।
এরই মধ্যে ইংলিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দাবি করেছে, পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনা পরিকল্পিতভাবে ৩১টি ‘ডার্ক আর্টস’ (নোংরা ও প্রতারণামূলক কৌশল) ব্যবহার করেছে।
পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, লিওনেল স্কালোনির দল কেবল ফুটবলই খেলেনি; বরং কঠোর ট্যাকল, প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়া, বারবার রেফারির কাছে অভিযোগ করা, সময় নষ্ট করা এবং খেলার গতি নষ্ট করার মতো নানা কৌশলও ব্যবহার করেছে।
এসব কারণেই তারা আর্জেন্টিনাকে ‘মাস্টার্স অব দ্য ডার্ক আর্টস’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩১টি আলাদা ঘটনার তালিকা প্রকাশ করেছে।
১. ১' — ম্যাচের শুরুতেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন।
২. ২' — লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেছন থেকে জুড বেলিংহ্যামকে ধাক্কা দেন, এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
৩. ৩' — খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পরপরই এনজো ফার্নান্দেজ এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর কঠোর ফাউল করেন।
৪. ৬' — জুলিয়ানো সিমিওনে আরেকটি শক্ত ট্যাকলে অ্যান্ডারসনের পায়ে আঘাত করেন।
৫. ১১' — এনজো ফার্নান্দেজ আবারও অ্যান্ডারসনকে আঘাত করেন; এরপর দুজন মাটিতে পড়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
৬. ১১' — ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে মরগান রজার্সকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দেওয়া হয়।
৭. ১৩' — অফসাইড ধরা পড়ার পর জুলিয়ানো সিমিওনে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের দিকে পা বাড়িয়ে দেন।
৮. ১৫' — পারেদেস বেলিংহ্যামের ওপর কঠোর ফাউল করেন এবং পরে আহত বেলিংহ্যামের সঙ্গেও তর্ক চালিয়ে যান।
৯. ১৬' — সিমিওনে অ্যান্থনি গর্ডনকে ট্যাকল করার পর তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
১০. ২৪' — সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কর্নারের সময় সিমিওনে পিকফোর্ডের চলাফেরায় বাধা দিতে থাকেন।
১১. ২৮' — ম্যাক অ্যালিস্টার দেরিতে করা একটি ট্যাকলে রিস জেমসকে ফাউল করেন, কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন।
১২. ৩১' — এনজো ফার্নান্দেজ ফাউল করে বেলিংহ্যামের আরেকটি আক্রমণ থামিয়ে দেন।
১৩. ৩৩' — সিমিওনে মাথা ব্যবহার করে মার্ক গেহির বিরুদ্ধে ফাউল আদায়ের চেষ্টা করেন।
১৪. ৩৪' — নাহুয়েল মোলিনা বেলিংহ্যামের পিঠে শক্ত ট্যাকল করেন।
১৫. ৩৬' — লিওনেল মেসির ওপর ফাউল করায় এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন।
১৬. ৩৭' — আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা হ্যারি কেইনকে লাল কার্ড দেখানোর দাবিতে রেফারিকে ঘিরে ধরেন।
১৭. ৪১' — পাল্টা আক্রমণের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মরগান রজার্সকে টেনে ফেলে দেন এবং হলুদ কার্ড দেখেন।
১৮. ৪৫+১' — ইংল্যান্ডের দ্রুত থ্রো-ইন ঠেকাতে আর্জেন্টিনার বেঞ্চ থেকে মাঠে দ্বিতীয় একটি বল ছুড়ে দেওয়া হয়।
১৯. ৪৫+২' — পারেদেস আবারও অ্যান্ডারসনের ওপর শক্ত ট্যাকল করেন।
২০. বিরতির সময় — প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ রেফারিকে ঘিরে অভিযোগ জানান।
২১. ৪৮' — বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে মেসি বেলিংহ্যামকে বিজ্ঞাপন বোর্ডের দিকে ধাক্কা দেন।
২২. ৫১' — দুই হাত দিয়ে বেলিংহ্যামকে ফেলে দেওয়ায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হলুদ কার্ড দেখেন।
২৩. ৫৩' — সিমিওনে হাত দিয়ে জেড স্পেন্সের মুখে আঘাত করেন, কিন্তু রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি।
২৪. ৫৮' — আকাশে ভাসা বলের লড়াইয়ের সময় রোমেরো পিকফোর্ডের সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, এতে দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
২৫. ৭৩' — থ্রো-ইনের সময় মেসি জেড স্পেন্সকে ধাক্কা দেন।
২৬. ৮৫' — এনজো ফার্নান্দেজ সমতাসূচক গোল করার পর উদযাপন করেন, আর রোমেরো পিকফোর্ডের দিকে চিৎকার করেন।
২৭. ৮৮' — জন স্টোনস চোট নিয়ে মাঠে পড়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা আবারও রেফারিকে ঘিরে অভিযোগ করেন।
২৮. ৯০+২' — গ্যাব্রিয়েল মন্টিয়েল থ্রো-ইনের সময় জুড বেলিংহ্যামকে বিদ্রূপ করেন।
২৯. ৯০+৭' — এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সময় নষ্ট করতে বল মাটিতে ধরে রাখেন এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের দিকে ব্যঙ্গাত্মক হাসি দেন।
৩০. শেষ বাঁশির পর — আর্জেন্টিনার উদযাপনের সময় ডিন হেন্ডারসন লাউতারো মার্তিনেজকে ধাক্কা দেন।
৩১. ম্যাচ শেষ হওয়ার পর — মরগান রজার্স আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, আর জুড বেলিংহ্যাম বেঞ্চে থাকা এক আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের ঘাড়ের পেছনে চড় মারেন।
তবে উল্লেখ্য, এগুলো দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ ও দাবি। এ বিষয়ে ফিফা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ডিসি/ আপ্র/১৬/০৭/২০২৬