লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ ও এর সংলগ্ন কৌশলগত শৈলশিরার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এটি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, অভিযানের সময় হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় তাদের এক সেনা নিহত এবং আরো চারজন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এ সময় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহ রকেট ও ড্রোন হামলা চালালে ওই এলাকায় স্কুল বন্ধসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, বিউফোর্ট শৈলশিরা ও ওয়াদি আল সালুকি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় ইরানের সহায়তায় গড়ে ওঠা সামরিক অবকাঠামোও ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি বাহিনীর মতে, এই শৈলশিরা দখলের ফলে দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে চলমান সংঘাতে প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে লেবাননে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং বারো লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দখলদারিত্ব পরিস্থিতিকে আরো জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
সানা/আপ্র/১/৬/২০২৬