কানাডার দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বায়ুমানের অবনতি হওয়ায় স্পেন-আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ফিফা এবং আপাতত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণমুখী বাতাসের কারণে ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন এলাকায় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী রোববার নিউ জার্সির উন্মুক্ত স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও শুক্রবারের তুলনায় বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবু সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য পরিবেশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে ডেট্রয়েট ও শিকাগোর বায়ুমান ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শহর দুটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, শনিবার সকালে ধোঁয়ার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।
ফিফা জানিয়েছে, দাবানলের ধোঁয়া এখন পর্যন্ত ফাইনাল আয়োজনের জন্য বড় কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। তবে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ফিফা সদর দপ্তরে জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বৈঠকেরও কথা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ পিটার মুলিনাক্স বলেন, গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে আরও ধোঁয়া প্রবেশ করতে পারে। তবে ফাইনালের দিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ম্যাচ বাতিল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই তার ধারণা।
অন্যদিকে বায়ুমান বিশেষজ্ঞ জোয়েল ড্রিসেনের মতে, সপ্তাহান্তের সম্ভাব্য ঝড়ের পর উত্তর দিক থেকে নতুন করে ধোঁয়া দক্ষিণে নেমে আসে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
চলতি বিশ্বকাপে এর আগেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ইকুয়েডর-মেক্সিকো ম্যাচ ঝড়ের কারণে এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ নিয়েও গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহও আয়োজকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে কয়েকটি আয়োজক শহরে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এর সঙ্গে দাবানলের ধোঁয়া যুক্ত হওয়ায় বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে আবহাওয়াজনিত শঙ্কা আরও বেড়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসি/আপ্র/১৮/০৭/২০২৬