একদিকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক শক্তি, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তাই শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপার লড়াই নয়, এটি হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসির জাদু বনাম স্পেনের অপ্রতিরোধ্য রক্ষণ দেয়ালের পরীক্ষা।
রোববারের (১৯ জুলাই) ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র মেসি। আর স্পেনের ভরসা গোলরক্ষক উনাই সিমনকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা দুর্ভেদ্য রক্ষণ। চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের জালে বল ঢুকেছে মাত্র একবার। এমন রক্ষণ ভেদ করে মেসি কি আবারও নিজের জাদু দেখাতে পারবেন—এখন সেটিই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এই বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে তাদের শক্তির কথা। উনাই সিমন ও তাঁর সতীর্থরা এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে দেননি। বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের রেকর্ডও এটি।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারের গোলের আগে টানা ৬৪৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগ—কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসদেরও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল তারা। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের প্রত্যাশিত গোলের পরিমাণ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৩১, যা ১৯৯৪ সালের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
তবে স্পেনের এই রক্ষণ দেয়ালের সামনে দাঁড়ানো মেসিও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। বয়স ৩৯ হলেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক চলতি বিশ্বকাপে দেখাচ্ছেন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
বিশ্বকাপের শুরুতে গোলদাতা হিসেবে আলো ছড়ালেও নকআউট পর্বে মেসিকে দেখা গেছে আরো পরিণত এক সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় হিসেবে। প্রথম দিকে হ্যাটট্রিক ও পরের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙেছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এরপর থেকে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে দুর্দান্ত ক্রসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করান মেসি, পাশাপাশি নিজেও গোল করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলের পেছনেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরো একবার নিজের সৃজনশীলতার প্রমাণ দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচে চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি দলের দুই গোলেই সহায়তা করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ফাইনালে তাই স্পেনের রক্ষণভাগের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা মেসির জন্য। তাঁকে থামাতে পারলে স্পেনের শিরোপার পথ অনেকটাই সহজ হবে। আর মেসি যদি একবারও তাঁর চেনা ছন্দে জ্বলে উঠতে পারেন, তাহলে ভেঙে যেতে পারে স্পেনের গর্বের রক্ষণ দেয়াল।
শিরোপার মঞ্চে এখন অপেক্ষা শুধু সেই মহারণের—মেসির শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হবে, নাকি স্পেনের দুর্ভেদ্য দুর্গই অক্ষত থাকবে।
সানা/আপ্র/১৮/৭/২০২৬