২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দেশটির জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম কাজে টিভি এবং তাদের পরিচিত ধারাভাষ্যকার লুইস ফেলিপে ফ্রেইতাস (লুইজিনহো)। লিওনেল মেসির প্রশংসা এবং আর্জেন্টিনার গোলের সময় অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশের অভিযোগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
বিশ্বকাপজুড়ে কাজে টিভির সম্প্রচার ব্রাজিলে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেলেও, অনেক দর্শকের অভিযোগ—চ্যানেলটি আর্জেন্টিনা, বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে অতিরিক্ত আবেগ দেখিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সমালোচনামূলক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ব্যঙ্গ করে চ্যানেলটির নতুন নতুন ডাকনামও দেওয়া হয়।
সমালোচনার মূল লক্ষ্য ছিলেন ধারাভাষ্যকার লুইজিনহো। দর্শকদের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার গোলের সময় তার কণ্ঠে অস্বাভাবিক উচ্ছ্বাস ছিল এবং পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি মেসির প্রশংসায় পক্ষপাতের পরিচয় দিয়েছেন। তার ধারাভাষ্যের বিভিন্ন অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্ক আরো তীব্র হয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কাজে টিভির উপস্থাপক ও বিশ্লেষকদেরও একটি লাইভ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়। অনুষ্ঠানে দর্শকদের পাঠানো বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। আলোচনা কিছুটা হাস্যরসাত্মক হলেও এতে স্পষ্ট হয়, সম্প্রচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন লুইজিনহো। তিনি বলেন, কিছু মুহূর্তে আবেগ হয়তো প্রকাশ পেয়েছে, তবে সেটি ম্যাচের নাটকীয়তার কারণেই।
তার ভাষায়, ‘আমার কাজ হলো মাঠে যা ঘটছে, সেটির গুরুত্ব ও নাটকীয়তা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা। আর্জেন্টিনার অনেক ম্যাচই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভরা ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই ধারাভাষ্যেও সেই আবেগ এসেছে।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। ব্রাজিলের অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা এবং মেসিকে নিয়ে একজন ব্রাজিলিয়ান ধারাভাষ্যকারের এমন উচ্ছ্বাস নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে, অনেক দর্শকের মতে, দলের পরিচয় নয়, মাঠের অসাধারণ ফুটবলের যথাযথ মূল্যায়ন করাই একজন পেশাদার ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব।
এসি/আপ্র/১৮/০৭/২০২৬