টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে আবারো জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে যশোরের ভবদহ অঞ্চল। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে শতাধিক মাছের ঘের ও আবাদি জমি। এতে মৎস্য ও কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভয়নগর উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে উপজেলার ৫০৩ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত ২২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার জানান, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক ঘেরের পাড় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি আরো বাড়লে ঘের থেকে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, টানা বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৩৭ হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমের চাষাবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবদহ অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘেরের পাড় পানিতে ডুবে গেছে। মাছ রক্ষায় অনেক চাষি ঘেরের চারপাশে উঁচু করে নেট ও বাঁশের পাটা বসাচ্ছেন। মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে বাড়ির উঠানেও পানি উঠতে শুরু করেছে। ঘেরের পাড়ে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজিও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিল ও খাল পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘেরের পাড় উপচে পানি ঢুকছে। আবার ভারী বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মশিয়াহাটি গ্রামের মাছচাষি রনি মণ্ডল বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মাছ রক্ষার জন্য নেট কিনেছিলেন। তবে হঠাৎ পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো নেট বসানো সম্ভব হয়নি। এ সুযোগে বাজারে নেটের দামও বেড়ে গেছে।
এসি/আপ্র/১৮/০৭/২০২৬