গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ফিরে দেখা জুলাই

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধে বদলে যায় জুলাই আন্দোলনের গতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৭ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৭ এএম ২০২৬
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধে বদলে যায় জুলাই আন্দোলনের গতি
ছবি

ফাইল ছবি

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৮ জুলাই নতুন মোড় নেয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন, আবাসিক হল খালি করে দেওয়ার নির্দেশ এবং আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশগ্রহণই আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি আরও দৃঢ় করে।

আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটি এখন ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্টেন্স ডে’ নামে পরিচিত। তবে চলতি বছর বন্যা পরিস্থিতির কারণে এ উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)।

কোটা আন্দোলন থেকে গণ-আন্দোলন
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা অবস্থান, বিক্ষোভ, সমাবেশ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন। ৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই চট্টগ্রাম, খুলনা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

পর্যায়ক্রমে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে ঢাকা। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৫ জুলাই ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁকে আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেন আন্দোলনকারীরা। এর পরদিন গায়েবানা জানাজার উদ্যোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।

১৮ জুলাই প্রতিরোধের দিন
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে কোটা প্রশ্নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সীমিত ছিল। তবে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৫ জুলাই থেকেই ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট প্রতিবাদ শুরু হয়। আবু সাঈদের মৃত্যুর পর পুসাব আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়।

পুসাবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুলাহ আল মাহফুজ জাকারিয়ার ভাষ্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল। ১৬ জুলাই রাতেই পূর্ণ শক্তিতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ভণ্ডুল হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পুসাব কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ
১৮ জুলাই সকাল থেকেই মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা বাইরে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে ছররা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।

পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আটকে পড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় আন্দোলন নতুন গতি পায়।

রাজধানী থেকে সারা দেশে সংঘর্ষ
সেদিন শুধু বাড্ডাই নয়, উত্তরা, রামপুরা, মালিবাগ, ধানমন্ডি, মিরপুর, নীলক্ষেত, আজিমপুর, তেজগাঁও, শান্তিনগর, মহাখালী, শনির আখড়া, কাজলা ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সংঘর্ষ হয়।

তৎকালীন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি। সারা দেশে ২৭ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ইন্টারনেট বন্ধ
১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালিত হয়। সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে দেশের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকেলে মেট্রোরেল চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

সেদিন রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করে। রাতেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। এর আগে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ ছিল। ফলে দেশ কার্যত ইন্টারনেটবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সমন্বয় থামেনি
ইন্টারনেট ও কারফিউর মধ্যেও আন্দোলনকারীরা বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ বজায় রাখেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের কয়েকজনকে গোয়েন্দা হেফাজতে নেওয়া হলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিন শাবাব জানান, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্দোলনের সমন্বয় করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যেকে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে একটি বিস্তৃত সমন্বয় কাঠামো তৈরি করেছিলেন।

আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁদের মতে, ওই প্রতিরোধ না হলে পরবর্তী গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তো।
সানা/আপ্র/১৮/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা: রাষ্ট্রপতি
১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে ত...

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উ...

লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ, শুরু স্মরণোৎসব
১৭ অক্টোবর ২০২৬

লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ, শুরু স্মরণোৎসব

মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ ১৭ অক্টোবর। এ উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দ...

দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ে আজ শনিবার খোলা সরকারি অফিস
১৭ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ে আজ শনিবার খোলা সরকারি অফিস

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) সচিবালয়সহ দেশের সরকারি অফিসগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।...

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে