ঢাকা থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন মুহিদ খান ওরফে রিফাত (২২)। টিকিট না পাওয়ায় আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেসের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রা করছিলেন তিনি। ভোরের দিকে ঝিমুনির মধ্যে হাতের মুঠো আলগা হয়ে ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে চাকার নিচে কাটা পড়ে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোর প্রায় চারটার দিকে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথের নেত্রকোনা শহরের রাজুরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুহিদ মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বড়পাইকুড়া গ্রামের মইনুল কবীর খানের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর থেকে আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেসে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মুহিদ। টিকিট না পাওয়ায় তিনি ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে ঝিমিয়ে পড়লে হঠাৎ হাত ছুটে ট্রেন থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর একটি পা ট্রেনের চাকায় কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বাকি অংশ পাশের একটি ডোবার পানিতে গিয়ে পড়ে।
সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নিহতের চাচাতো ভাই দেওয়ান রিয়াদ জানান, টিকিট না পাওয়ায় মুহিদ ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে ঝিমুনির মধ্যে তাঁর হাত ছুটে গেলে তিনি ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারান।
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আকমল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম তারা সম্পন্ন করবে।
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৮/৭/২০২৬