দেশের প্রায় আড়াই কোটি থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষককে আগামী তিন বছরের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। এর মধ্যে প্রথম এক বছরেই ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী কৃষক কার্ডের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কৃষিমন্ত্রী জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
মো. আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। কৃষকদের দেওয়া সব তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, উন্নত মানের বীজ ও সার, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নানা জটিলতার স্থায়ী সমাধান হবে। তবে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক কৃষককে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী নিবন্ধন বুথ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, অনলাইন নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী। সভায় কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও বীজের সরবরাহ, সেচ সুবিধা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি সহায়তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শুনে কৃষকদের কল্যাণে সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছাবে এবং কৃষি খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ ও মালিকানার বিবরণ, চাষাবাদের ধরন, উৎপাদিত ফসলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৭/৭/২০২৬