বর্ষা মৌসুমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও উচ্চ দামের কারণে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে জাতীয় মাছ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল, চন্দ্রিমা, ঢাকা উদ্যান, কাদেরাবাদ হাউজিং ও জেনেভা ক্যাম্প বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ইলিশের উপস্থিতি থাকলেও দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। অনেকেই শুধু দাম জেনে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ছোট আকারের ইলিশ বা বিকল্প মাছ কিনছেন।
বাজারে ৪৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি।
টাউন হল বাজারের ক্রেতা শাওন বলেন, ইলিশ কিনতে এসেও দাম শুনে ছোট মাছ নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। সংসারের খরচ সামলে এত দামে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়।
একই বাজারের আরেক ক্রেতা চন্দনা রানী জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরে এক কেজির কিছু বেশি ওজনের দুটি ইলিশ ৪ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছেন। তার দাবি, বাজারে তাজা ইলিশের তুলনায় হিমাগারের মাছই বেশি।
চন্দ্রিমা বাজারের ক্রেতা সাইফুল বলেন, সন্তানদের ইচ্ছা পূরণ করতে ছোট একটি ইলিশ কিনেছেন। বড় ইলিশ কেনার সামর্থ্য তার নেই।
জেনেভা ক্যাম্প বাজারের এক চাকরিজীবী বলেন, ইলিশের মৌসুমে অন্তত একবার কিনতে চান। কিন্তু এক কেজি ইলিশ কিনতেই কয়েক দিনের বাজারের বাজেট শেষ হয়ে যায়।
ঢাকা উদ্যান বাজারের গৃহিণী খাদিজা বেগমের ভাষ্য, বাজারে মাছের অভাব নেই, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা ইলিশ বাজারে আসেনি। চন্দ্রিমা বাজারের মাছ বিক্রেতা মামুন বলেন, তার দোকানে ছোট আকারের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের বড় ইলিশ তারা আনেন না, কারণ তাদের ক্রেতাদের বেশিরভাগই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত।
টাউন হল বাজারের বিক্রেতা বাদশা মিয়া জানান, এক কেজি বা তার কিছু বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, বাজারের অধিকাংশ ইলিশ এখনো হিমাগারে সংরক্ষিত, তাজা মাছের সরবরাহ সীমিত।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে ইলিশ কেনায় আগ্রহ কম। মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা, মৌসুমে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
এসি/আপ্র/১৮/০৭/২০২৬