গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালুর কথা জানালেন মন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ০০:৪৫ এএম ২০২৬
সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালুর কথা জানালেন মন্ত্রী
ছবি

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী -ছবি সংগৃহীত

সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালু করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতেই সরকার এ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এছাড়া দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। কারণ, ঐতিহ্য রক্ষা মানেই জাতির শেকড়কে সুরক্ষিত রাখা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৪ মে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে  বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘নৃত্যগীতি ও প্রবন্ধ পাঠ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই চন্দ্র রায়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “তিনি বলেন, “সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কারণ, ঐতিহ্য রক্ষা মানেই জাতির শেকড়কে সুরক্ষিত রাখা।”

জাতি ও জাতিস্বত্তার বিকাশের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়, চেতনা ও সভ্যতার ভিত্তি। যে জাতি তার সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে পারে না, সে জাতি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় টিকে থাকতে পারে না। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাদের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের মাধ্যমে সেই চেতনাকেই বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনভূমি। এ দেশের বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা ও গোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকে রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মীদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের মানবতার বাণী শিখিয়েছেন, নজরুল শিখিয়েছেন সাম্য, দ্রোহ ও মুক্তির চেতনা। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের আদর্শ পৌঁছে দিতে হলে সাংস্কৃতিক চর্চাকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজজীবনের প্রতিটি স্তরে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সংস্কৃতিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপার নির্দেশনায় ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর নৃত্যগীতি পরিবেশন করেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে কেন্দ্র করে প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা।

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার পাওয়ান বঢ়ে। দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন।
সানা/আপ্র/১৫/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

নীরবে পোড়া মন
১৭ জুলাই ২০২৬

নীরবে পোড়া মন

ছোটগল্প===

বর্ষার কবিতা
১৭ জুলাই ২০২৬

বর্ষার কবিতা

শ্রাবণীরাজীব কুমার দাসশ্রাবণ মেঘের জোয়ার আকাশে দিয়েছে পাড়িপ্রকৃতি মেতেছে শ্রাবণী সাজেকত সুখ বাসনায় র...

টিউশনির আজগুবি আলাপ
১৭ জুলাই ২০২৬

টিউশনির আজগুবি আলাপ

রম্য ছড়া===

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব

কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতে নতুন বিধান সংযোজনের দাবি জানিয়েছে দলটি। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন জামায়াতের এই প্রস্তাব গণতান্ত্রিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 10 ঘন্টা আগে