বাবার কাঁধে চড়ে পুতুলনাট্য উপভোগ করছিল ছোট্ট মাইশা, পাশ থেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিলেন তার মা।
অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই ছোটদের ভিড় দেখা যায় ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’ চত্বরে। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে হাঁটছিল, কেউ আবার বিভিন্ন স্টলে গিয়ে শিশুতোষ বইয়ের রঙিন মলাট উলটে দেখছিল। ছুটির দিনে বইমেলার শিশুচত্বরের মূল আকর্ষণ মূলত পুতুলনাট্য।
শত শত শিশুকিশোর তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুতুলনাট্য উপভোগ করে। বইমেলায় এই পুতুলনাট্যের আয়োজন সাজিয়েছে ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’। বইমেলায় শিশুদের জন্য এবার আলাদা করে চত্বর করা হয়নি। মেলার একটি অংশে শিশুদের প্রকাশনার জন্য স্টল সাজানো হয়েছে।
শিশুচত্বরের একটি স্টলের সামনে পাওয়া গেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রশীদ হারুনকে। অনেক বছর ধরেই পুতুলনাট্য নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। এক সময় গ্রামীণ মেলার মূল আকর্ষণ পুতুল নাচ শহুরে বইমেলায়ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে গ্রামীণ পুতুল নাচ কেন হারিয়ে গেল? এ প্রসঙ্গ নিয়েই কথা হচ্ছিল রশীদ হারুনের সঙ্গে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মেধা, শিক্ষা এবং সৃজনশীলতা না থাকলে, ভেতর থেকে নতুন চিন্তা না থাকলে কোনো শিল্পই টিকে থাকে না। আমাদের দেশের পাপেট শিল্পীরা এজন্যই হারিয়ে যাচ্ছেন।’ গ্রামীণ পুতুলনাট্যের শিল্পীরা এখনো পুরনো গল্পই উপস্থাপন করে চলেছেন। তারা সময়ের স্রোতে নিজেদের হালনাদাগ করতে পারেননি বলেও মনে করেন পুতুলনাট্যের এই গবেষক।
রশীদ হারুন বলেন, ‘পুতুলনাট্যের আবেদন কিন্তু এখনো আছে, তা আমরা বইমেলায় দেখছি। ছোটবড় সবাই কত আগ্রহ নিয়ে পুতুলনাট্য উপভোগ করছেন। নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ এখন নতুন চিন্তা নিয়ে কাজ করছেন এবং তারা পাপেটকে পেশা হিসেবে নেওয়ারও স্বপ্ন দেখছেন। তার উদাহারণ কাকতাড়য়া পাপেট থিয়েটার। এখানে এই প্রজন্মের কিছু ছেলে মেয়ে পাপেট নিয়ে কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পুতুলনাট্যের কর্মশালা করাচ্ছেন। এবারের বইমেলায় তো তারা বেশ আলোচনা তৈরি করেছেন। তাই আমি মনে নতুন চিন্তা, নতুন গল্প এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারলে পুতুলনাট্য আবারো মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়েই থাকবে।’
এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা পুতুলনাট্যে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছে বলেও মনে করেন রশীদ হারুন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমি ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদের জন্য ভালো মানের বইও রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে শিশুদের বই বের করা কিছু নতুন প্রতিষ্ঠান ভালো বই এনেছে। আবার কিছু বইয়ে রঙচটা প্রচ্ছদে আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে সেসব বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
আজিমুপুর থেকে মেয়েকে নিয়ে মেলায় এসেছেন স্কুল শিক্ষক আবিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কয়েকটা স্টলে দেখলাম রঙিন প্রচ্ছদ, তবে বইয়ের মান ভালো না। এআই দিয়ে করা প্রচ্ছদও দেখেছি। এসব বইয়ের দামও বেশি রাখা হচ্ছে।’
‘আমেরিকার প্যারানরমাল গল্প’ নামে ভুতুড়ে ঘটনা নিয়ে গল্পের বই এসেছে পাঞ্জেরির স্টলে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঘটা কিছু রহস্যজনক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে এর গল্পগুলো। বইটির লেখক আদনান সৈয়দ।
‘বাংলা গদ্যসাহিত্য বিবিধ বিকিরণ’ নামের আসমা উল হোসনা চৌধুরীর আলোচনামূলক প্রবন্ধের বই এনেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গা, তারিণী মাঝি, শওকত ওসমানের দরিয়া বিবিসহ বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিভিন্ন চরিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে বইটিতে।
সানা/আপ্র/৬/৩/২০২৬