গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৮ এএম ২০২৬
পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ
ছবি

আদালতে মামলার অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার -ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিচার শুরুর পর মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম নিষ্পত্তির নজির হতে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগে গত বছর মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ ১৪ কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছিল। ওই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

রামিসার পরিবার এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে। নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, “আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশায় আছি। আশা করছি, আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেবেন।” একই সঙ্গে তিনি ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “আশা করছি, আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেবেন।” অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ বলেন, “আমি আসামিদের ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।”

যেভাবে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায় মামলা
গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরদিন সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটিও বাতিল করা হয়। ১ জুন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, স্বজন, প্রতিবেশী, পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষীদের বর্ণনায় উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা।

পরদিন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আদালত সাক্ষ্য ও অভিযোগ পড়ে শোনান। এ সময় স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সোহেল রানাও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টায় সহযোগিতার অপরাধের শাস্তি প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ নৃশংস ঘটনার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরো সুদৃঢ় হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
সানা/আপ্র/৭/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

‘গুপ্তদের’ আড়ালে অরাজকতা উসকানো হচ্ছে কিনা, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গুপ্তদের’ আড়ালে অরাজকতা উসকানো হচ্ছে কিনা, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থানে ছিল, তাদের আড়ালে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার দেশে অরাজকতা...

জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনা

নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী...

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৪ কেজি সোনার বার জব্দ
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৪ কেজি সোনার বার জব্দ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ থেকে ১৩ দশমিক ৯২ কেজি ওজন...

কামরাঙ্গীরচরে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কামরাঙ্গীরচরে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে