একটি শিশু উঠানে খেলছে। কখনো মাটিতে বসছে, কখনো খেলনা হাতে নিচ্ছে আবার কখনো ওই হাতই মুখে দিচ্ছে। পাশেই পুরোনো ব্যাটারি, ভাঙা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি কিংবা রঙের খসে পড়া দেওয়াল। শিশুর কাছে এগুলো নিছকই আশপাশের পরিচিত জিনিস। কিন্তু সেখান থেকেই তার শরীরে ঢুকে যেতে পারে এমন একটি বিষ- যার কোনো রং নেই, গন্ধ নেই। অথচ ক্ষতি হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী। এই বিষের নাম সিসা।
সিসা মানুষের শরীরে কোনো প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে না। বরং এটি শরীরে জমতে পারে এবং মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার, রক্ত ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ তাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র তখনো বিকাশমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সিসার এমন কোনো মাত্রা এখনো শনাক্ত হয়নি, যাকে স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সিসার ক্ষতি অনেক সময় চোখে দৃশ্যমান নয়। শিশু হয়তো স্বাভাবিকভাবেই হাঁটছে, খেলছে, কথা বলছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংস্পর্শ তার মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের শিশুদের সামনে বাস্তব ঝুঁকি: বাংলাদেশে সিসা দূষণ আর কেবল আশঙ্কার বিষয় নয়; সাম্প্রতিক জাতীয় তথ্য এর ব্যাপকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এ প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের রক্তে সিসার মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৪ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা ৫ ক্রম/ফখ বা তার বেশি পাওয়া গেছে। একই বয়সী শিশুদের গড় রক্ত-সিসার মাত্রা ছিল ৫.২১ ক্রম/ফখ। অর্থাৎ দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি বড় অংশ এমন মাত্রার সিসার সংস্পর্শে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষার জন্য উদ্বেগের কারণ। এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এর পেছনে আছে অসংখ্য শিশু। যারা হয়তো প্রতিদিন স্কুলে যাচ্ছে, খেলছে, পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছে; অথচ তাদের চারপাশের পরিবেশে থাকা দূষিত ধুলো, মাটি, পানি, খাদ্য কিংবা পণ্যের মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে সিসা।
কোথা থেকে সিসা আসে: সিসার ব্যবহার বহু পুরোনো। শিল্পকারখানা, ব্যাটারি, রঙ, প্ল্যাস্টিক, ধাতব পণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার হয়েছে। বর্তমানে সিসার বড় একটি ব্যবহার হলো লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি তৈরিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বৈশ্বিকভাবে সিসার ব্যবহারের বড় অংশ মোটরযানের লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এর পাশাপাশি ব্যাটারি ও অন্যান্য সিসাযুক্ত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারও দূষণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঝুঁকির উৎস হতে পারে পুরোনো লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি; অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং; ই-বর্জ্য; সিসাযুক্ত পুরোনো রঙ; দূষিত খেলনা; কিছু ধাতব ও সিরামিক পণ্য; দূষিত মাটি ও ধুলো; কিছু প্রসাধনী ও ঐতিহ্যবাহী ওষুধ; সিসাযুক্ত শিল্পবর্জ্য।
ই-বর্জ্যও হতে পারে বিপদের উৎস: মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, চার্জার, ব্যাটারি, সার্কিট বোর্ডসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহারের পর বর্জ্যে পরিণত হয়। যদি এসব বর্জ্য আলাদা করে নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় না নেওয়া হয় এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভাঙা, পোড়ানো বা ধাতু সংগ্রহ করা হয়, তাহলে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই; যখন এসব কাজ আবাসিক এলাকার কাছাকাছি হয়। খেলতে গিয়ে শিশু দূষিত মাটি বা ধুলোতে বসতে পারে। হাত দিয়ে মাটি বা বর্জ্য স্পর্শ করার পর মুখে হাত দিতে পারে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; এটি শিশু সুরক্ষারও বিষয়।
যেভাবে শিশুর প্রবেশ করে শরীরে সিসা: সিসা শরীরে প্রবেশ করতে পারে মূলত দূষিত ধুলো, মাটি, পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত কণা শ্বাসের সঙ্গেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ার একটি কারণ তাদের স্বাভাবিক আচরণ। ছোট শিশুরা খেলতে গিয়ে মাটিতে হাত দেয়, বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করে এবং প্রায়ই হাত বা বস্তু মুখে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা সিসা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি শোষিত হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে, বিশেষ করে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে। এ কারণে শিশুর জন্য পরিষ্কার পরিবেশ, নিরাপদ খাবার, নিরাপদ পানি এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সবকিছুই সিসা প্রতিরোধের অংশ।
সবচেয়ে বড় আঘাত মস্তিষ্কে: সিসার সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাবগুলোর একটি শিশুর বিকাশমান মস্তিষ্কে। সিসার সংস্পর্শ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এর সঙ্গে কম বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, মনোযোগ কমে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন, শেখার সমস্যা এবং শিক্ষাগত অর্জন কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এখানেই সমস্যার একটি নীরব দিক আছে। একজন শিশু হয়তো স্কুলে গিয়ে পড়া মনে রাখতে পারছে না। শিক্ষক বলছেন, সে মনোযোগ দিচ্ছে না। পরিবার ভাবছে, শিশুটি পড়াশোনায় আগ্রহী নয়। কিন্তু সব সময় কারণটি অলসতা বা অমনোযোগিতা না-ও হতে পারে।শিশুর পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে সিসার সংস্পর্শ থাকলে তার শেখার ক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ একটি শিশুর শিক্ষার অধিকার রক্ষার জন্যও পরিবেশকে নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।
শারীরিক ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা শুধু মস্তিষ্কের ক্ষতি করে না। এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে সিসার সংস্পর্শে রক্তস্বল্পতা হতে পারে; পেটব্যথা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে; বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হতে পারে; আচরণগত পরিবর্তন হতে পারে; মনোযোগ কমতে পারে; শেখার সমস্যা তৈরি হতে পারে; কিডনির কার্যকারিতায় ক্ষতি হতে পারে; গুরুতর ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। উচ্চমাত্রার বিষক্রিয়ায় খিঁচুনি, কোমা, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবে কম মাত্রার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও উদ্বেগের কারণ। এর প্রভাব অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই শিশুর বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে।
সিসা কারখানায় শিশুশ্রম: অনেক শিশুই এখন জীবিকার তাগিদে সরাসরি সিসা কারখানায় কাজ করছে। অল্প বয়সেই তারা ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। কারখানায় সিসা গলানো, ভাঙা, বাছাই ও পরিবহনের মতো কাজে তাদের ব্যবহার করা হয়। কাজের সময় সিসার ধোঁয়া ও ধুলার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে। অনেক শিশুই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করে। ফলে তাদের শরীরে সিসা প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়। সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন সিসার সংস্পর্শে থাকা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কারখানার পরিবেশে খাবার ও পানির মাধ্যমেও সিসা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব ও পরিবারের আর্থিক চাপ শিশুদের এই কাজে ঠেলে দেয়। ফলে যে বয়সে তাদের স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সেই তারা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে আটকে পড়ছে। শিশুশ্রম বন্ধের পাশাপাশি সিসা-দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ একটি শিশুর হাতে কাজের ভার নয়, থাকার কথা বই-খাতা ও একটি নিরাপদ শৈশব।
শিশুর ভবিষ্যৎও ঝুঁকিতে: একটি শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ তার বিকাশের ওপর প্রভাব ফেললে তার প্রভাব শুধু আজকের দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিশুর স্কুলে শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ, আচরণ এবং শিক্ষাগত অর্জনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। পরবর্তী জীবনে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও তৈরি হতে পারে। ইউনিসেফ বলছে, সিসার সংস্পর্শে আসা শিশুরা শেখার সমস্যায় পড়তে পারে এবং স্কুলে পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই সিসা দূষণকে শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। এটি একই সঙ্গে শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শিশু অধিকার সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।
পরিবারের করণীয়: পরিবারও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে। শিশুর খেলার জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসে এবং খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। এমন কোনো স্থানে তাকে রাখা যাবে না, যেখানে সিসাযুক্ত পদার্থ আছে। সেইসাথে শিশুর খেলনা বাছাইয়েও হতে হবে যথেষ্ট সোচ্চার। এ ছাড়া যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাটারি রিসাইক্লিং বা অন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত, তাদের কর্মস্থলের পোশাক ও জুতা সরাসরি ঘরের ভেতর না নেওয়া এবং শিশুদের সংস্পর্শে আসার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সরাসরি কোনো সিসা কারখানা বা যেখানে সিসার ঝুঁকি থাকতে পারে; সেসব কর্মস্থলে কাজ করতে দেওয়া যাবে না। ইউনিসেফ পরিবারগুলোকে অনানুষ্ঠানিক ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও ই-বর্জ্য এলাকা থেকে শিশুদের দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সাথে শিশুর খেলনা কেনার ক্ষেত্রেও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উৎস বেছে নেওয়া দরকার।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব: সিসা দূষণ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিসাযুক্ত রং ও পণ্যের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারি ও ই-বর্জ্যের নিরাপদ সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিং বন্ধ করা, ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প এলাকায় পরিবেশগত নজরদারি, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যে সিসা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সিসাযুক্ত রং নির্মূল, সিসাযুক্ত বর্জ্যের নিরাপদ রিসাইক্লিং এবং শিশু ও সন্তান ধারণক্ষম বয়সের নারীদের রক্তে সিসার মাত্রা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের ‘এমআইসিএস ২০২৫’ এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন এই তথ্যকে শুধু প্রতিবেদনের পাতায় আটকে না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, উৎস ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
নিরাপদ ও নিরাপত্তায় শিশু: শিশুর শৈশব হওয়ার কথা রঙিন। সেখানে থাকার কথা খেলনা, বই, মাঠ আর স্বপ্ন। ওই শৈশবের মাঝখানে সিসা ঢুকে পড়ে- যা দেখা যায় না। সিসা দূষণ প্রতিরোধযোগ্য। তাই শরীরে প্রবেশের পর চিকিৎসার চেয়ে শিশুর চারপাশ থেকে সিসার উৎস সরিয়ে দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর পায়ের নিচে থাকার কথা নিরাপদ মাটি। তার খেলার জায়গা হওয়ার কথা পরিষ্কার মাঠ। কিন্তু সেই মাটি যদি দূষিত হয়, সেই খেলনার রঙে যদি বিষ থাকে, বাড়ির পাশের বর্জ্যের স্তূপে যদি সিসা থাকে কিংবা পরিবারের জীবিকার জায়গা যদি অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে শিশুর শৈশব আর পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, সিসা শিশুকে আঘাত করলেও সব সময় তার চিহ্ন বাইরে থেকে দেখা যায় না। কোনো শিশু হয়তো পড়া মনে রাখতে পারছে না। কেউ হয়তো ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। কেউ হয়তো বয়স অনুযায়ী বিকশিত হচ্ছে না। আমরা খুব সাধারণ অর্থে বলছি ‘শিশুটি অমনোযোগী’। বাংলাদেশের প্রায় ৩৮.৪ শতাংশ ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর রক্তে ৫ ক্রম/ফখ বা তার বেশি সিসা পাওয়ার জাতীয় তথ্য আমাদের সামনে এসেছে। এই সংখ্যার প্রতিটি শতাংশের পেছনে একটি করে শিশু আছে। আছে তার পরিবার, স্কুল, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ। সিসা দূষণ কোনো অদৃশ্য ভাগ্য নয়। এর উৎস চিহ্নিত করা যায়, ঝুঁকি কমানো যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা যায়। মেধা বিকাশে আজকের শিশুই হবে আগামীর কর্ণধার। তাই শিশুর সুরক্ষায় ও আগামীর দিন আজকেই তৈরি করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬