নতুন আইফোন কেনার পর স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন সেটি ব্যবহারের প্রত্যাশা থাকে। তবে সব ধরনের পুনরায় চার্জযোগ্য ব্যাটারিই সময়ের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যায়, যা সরাসরি ফোনের দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলে।
আইফোনের ব্যাটারি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে কি না, কখন ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে কিংবা পুরনো বা ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে সেটির সার্বিক অবস্থা কেমন - এসব জানতে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। এ জন্য অ্যাপল আইফোনে ‘সাইকেল কাউন্ট’ এবং ‘ব্যাটারি হেলথ’ দেখার সুবিধা রেখেছে।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য দেখবেন যেভাবে: আইফোনের ব্যাটারির বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা বেশ সহজ। এজন্য-
* প্রথমে ফোনের ‘সেটিংস’ অ্যাপ খুলুন।
* কিছুটা নিচে গিয়ে ‘ব্যাটারি’ অপশনে ট্যাপ করুন।
* এরপর ‘ব্যাটারি হেলথ’ অপশনে প্রবেশ করুন। আইফোন ১৩-এর মতো কিছু পুরনো মডেলে এটি ‘ব্যাটারি হেলথ অ্যান্ড চার্জিং’ নামে দেখা যেতে পারে।
এই অপশনে ঢুকলেই নতুন অবস্থার তুলনায় বর্তমানে ফোনের ব্যাটারি কত শতাংশ পর্যন্ত চার্জ ধারণ করতে পারছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যাটারি সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেখা যাবে।
ব্যাটারি পরিসংখ্যানের অর্থ: ‘ম্যাক্সিমাম ক্যাপাসিটি’র শতকরা হার থেকেই আইফোনের ব্যাটারির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাটারিকে তার মূল ধারণক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ধরে রাখার উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলগুলোর ক্ষেত্রে এক হাজারটি পূর্ণ চার্জ সাইকেলের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। পুরনো মডেলগুলোর ক্ষেত্রে ৫০০ চার্জ সাইকেলের পর ব্যাটারির সক্ষমতা কমতে শুরু করতে পারে।
ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ফোন সচল থাকলেও আগের তুলনায় দ্রুত চার্জ শেষ হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাটারির সক্ষমতা অনেক কমে গেলে হঠাৎ ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে আইওএস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশেষ পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনা চালু করতে পারে। এমনটি হলে ‘পিক পারফরম্যান্স ক্যাপাবিলিটি’ অপশনের নিচে সতর্কবার্তা দেখা যাবে। সেখানে কোনো সতর্কবার্তা না থাকলে বোঝা যাবে, ব্যাটারির কারণে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় কোনো সমস্যা নেই।
ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়: আইফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ‘অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং’ সুবিধাটি চালু রাখা যেতে পারে। এটি চালু থাকলে ফোন ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে নেয়।
ফলে ব্যাটারি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হওয়ার পর চার্জ দেওয়া সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখতে পারে এবং ফোন ব্যবহারের কিছুক্ষণ আগে বাকি ২০ শতাংশ চার্জ পূর্ণ করে। আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলগুলোতে ব্যাটারি সর্বোচ্চ কত শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে, সেই সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যাটারির আয়ু ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সাইকেল কাউন্ট দেখবেন যেভাবে: আইফোন ১৫ বা পরবর্তী মডেল ব্যবহারকারীরা ফোনের সেটিংস থেকেই সহজে ‘সাইকেল কাউন্ট’ দেখতে পারবেন। এজন্য ‘সেটিংস’ থেকে ‘ব্যাটারি’ এবং এরপর ‘ব্যাটারি হেলথ’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে কিছুটা নিচে গেলেই সাইকেল কাউন্টের সংখ্যা দেখা যাবে।
পুরনো মডেলগুলোর ক্ষেত্রে অ্যাপল সরাসরি এই হিসাব দেখায় না। এসব মডেলের চার্জ সাইকেল জানতে ‘কোকোনাট ব্যাটারি’র মতো তৃতীয় পক্ষের ম্যাক অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা বুঝতে সাইকেল কাউন্ট গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলের ব্যাটারি এক হাজারটি পূর্ণ চার্জ সাইকেল পর্যন্ত মূল সক্ষমতার ৮০ শতাংশ ধরে রাখার জন্য নকশা করা হয়েছে। পুরনো মডেলগুলোর ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০০ সাইকেল।
বাস্তব ব্যবহারে এক হাজার চার্জ সাইকেল পূর্ণ হতে প্রায় দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
তবে একটি চার্জ সাইকেল মানে একবারে শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দেওয়া নয়। ব্যাটারির মোট ১০০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করাকে একটি পূর্ণ চার্জ সাইকেল ধরা হয়। যেমন, একদিন ব্যাটারির ৫০ শতাংশ ব্যবহার করে ফোন চার্জ দেওয়ার পর পরদিন আরো ৫০ শতাংশ ব্যবহার করলে দুই দিনে মিলে সেটি একটি পূর্ণ চার্জ সাইকেল হিসেবে গণ্য হবে।
সাইকেল কাউন্ট নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালেই ব্যাটারি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে এর ধারণক্ষমতা কমতে থাকে এবং আগের তুলনায় কম সময় ব্যাকআপ দিতে পারে।
ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে এবং সাইকেল কাউন্টও বেশি হয়ে গেলে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যাটারি পরিবর্তনের কথা ভাবা যেতে পারে। নির্ভরযোগ্য সেবার জন্য অ্যাপলের অনুমোদিত সেবা কেন্দ্র বা অ্যাপল সাপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৩/৯/২০২৬