বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। সময় যখন ফুরিয়ে আসছিল, ইংল্যান্ডের স্বপ্ন যখন ছুঁয়ে দেখছিল ফাইনালের দুয়ার—ঠিক তখনই জ্বলে উঠল লিওনেল মেসির দল। শেষ সাত মিনিটের ঝড়ে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে ছিল একেবারেই ভিন্ন চিত্র। আক্রমণের চেয়ে শারীরিক লড়াই, ফাউল আর উত্তেজনাই ছিল বেশি। দুই দলের কেউই প্রথম ৪৫ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। বিশ্বকাপের ১৯৬৬ সালের পর সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে এমন ঘটনা দেখা গেল এই প্রথম।
প্রথমার্ধে দুই দল মিলে ফাউল করেছে ১৯টি। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ফাউল ১২টি, ইংল্যান্ডের ৭টি। খেলার গতি বারবার থামিয়ে দিতে হয়েছে রেফারিকে। মেসি, হ্যারি কেইন কিংবা দুই দলের আক্রমণভাগের কেউই বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে আচমকা এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে মরগান রজার্সের দুর্দান্ত ক্রসে অ্যান্থনি গর্ডন নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল পাঠান আর্জেন্টিনার জালে। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংলিশরা।
গোল খাওয়ার পরই যেন জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ইংলিশদের রক্ষণাত্মক কৌশলের সুযোগ নিয়ে বারবার বক্সের বাইরে থেকে আক্রমণ চালায় মেসির দল।
অবশেষে ৮৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফের্নান্দেসের দুর্দান্ত শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই পাল্টে যায় ম্যাচের আবহ।
সমতা ফেরানোর পর আর্জেন্টিনা আর থামেনি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির জাদু। ডান দিক থেকে অধিনায়কের নিখুঁত ক্রস পেয়ে লাউতারো মার্তিনেস দুর্দান্ত হেডে বল পাঠান জালে। উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুই গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন লিওনেল মেসি। একটি সহায়তা করেন এনজো ফের্নান্দেসের গোলের সময়, অন্যটি লাউতারোর জয়সূচক গোলে।
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এর আগেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রতিবারই ফিরে এসেছে তারা। কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অধিনায়ক মেসি বারবার বলেছেন, এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেটিই আবার প্রমাণ করল তারা।
অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখা ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। টমাস টুখেলের দল শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি গর্ডনের দেওয়া লিড।
ফাইনালে এখন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই ফুটবল শক্তি। শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের শেষ অধ্যায় এখন অপেক্ষা করছে ফাইনালের মঞ্চে। আর বিশ্ব ফুটবল অপেক্ষায়—আর্জেন্টিনা কি পারবে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখতে?
সানা/আপ্র/১৬/৭/২০২৬