সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ৪০টির বেশি বিমান নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর দেওয়া এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে তীব্র আলোচনা, সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন। যুক্তরাজ্য থেকে ১০টি ভাড়া করা বিমান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও বিমান নিয়ে নেতাকর্মীরা ঢাকায় ফিরতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে হয়তো ৪০টির বেশি বিমান গিয়ে একসঙ্গে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে।”
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রবাসীরা আবারও সক্রিয় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে ৪০টি বিমান একসঙ্গে ঢাকায় অবতরণের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এতগুলো বিমান অবতরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এতগুলো বিমান ল্যান্ড করবে কোথায়?” আরেকজন মন্তব্য করেন, “বাসের কথা বলতে গিয়ে আবেগে বিমানের কথা বলে ফেলেছেন।”
আরও অনেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। কেউ প্রশ্ন তোলেন, বিমান কি বাস বা লঞ্চের মতো একসঙ্গে এসে দাঁড় করানো যায়? কেউ আবার লিখেছেন, এতগুলো বিমান অবতরণের জন্য নতুন বিমানবন্দর তৈরি করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর থেকে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তিনি একা নন, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজনও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পরই আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে এই মন্তব্য সামনে আসে।
তবে ৪০টি বিমান নিয়ে দেশে ফেরার বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা নিয়মিত আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে যেমন সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করছে, তেমনি বিরোধীদের কাছেও তা হয়ে উঠছে সমালোচনা ও ব্যঙ্গের বিষয়।
সানা/আপ্র/১৬/৭/২০২৬