বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ, বৃষ্টির ছন্দ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টির মেলবন্ধনে মুখর হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। গান, নৃত্য ও আবৃত্তির নান্দনিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগীতসন্ধ্যা ‘বর্ষায় নজরুল’।
বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। নজরুলের বর্ষাবিষয়ক গান ও কবিতার মাধ্যমে শিল্পীরা তুলে ধরেন প্রকৃতি, প্রেম, মানবতা ও সৌন্দর্যের অনন্য এক আবহ।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও ষড়ঋতুর গভীর প্রতিফলন রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা ও শ্রাবণকে ঘিরে তাঁর অসংখ্য গান ও কবিতা বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম, চির-মনোরম চির-মধুর’ গান ও কবিতায় নজরুল যেন বাংলাদেশের প্রকৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এঁকেছেন। তাঁর শ্রাবণ ও বৃষ্টি নিয়ে লেখা গান-কবিতা আজও মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা ‘রিমি ঝিমি রিমি ঝিমি মন দেওয়া বরষে’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করেন সমবেত সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য’ এবং ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল একক নজরুলসংগীত পরিবেশনা। বিশিষ্ট শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, ইয়াসমীন মুস্তারী, খায়রুল আলম শাকিল ও প্রিয়াংকা গোপ এককভাবে নজরুলের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
নজরুলের বর্ষার গানের সঙ্গে বিভিন্ন নৃত্যদল সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। তাদের পরিবেশনায় বর্ষার প্রকৃতি, বৃষ্টির সৌন্দর্য ও কবির সৃষ্টির আবেগ ফুটে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে বছরব্যাপী নানা আয়োজন হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সংগীতসন্ধ্যা ‘বর্ষায় নজরুল’ সেই ধারাবাহিক আয়োজনেরই একটি অংশ, যেখানে কবির সৃষ্টির মাধ্যমে বাঙালির চিরচেনা বর্ষার সৌন্দর্য নতুন করে মঞ্চে প্রাণ পেয়েছে।
সানা/আপ্র/১৬/৭/২০২৬