বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের শেষ ষোলোতেই বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজয়ের পর তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রাজিল হেরে গেলে শেষ বাঁশির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। কিছুক্ষণ পরই তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
নেইমার বলেন, এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই তাঁর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং এখানেই শেষ হলো। তিনি জানান, চেষ্টা করেও দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারার হতাশা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন।
২০১০ সালের ১০ আগস্ট একই মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। শেষ ম্যাচেও তিনি গোল করলেও তা দলের পরাজয় এড়াতে পারেনি।
ব্রাজিলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো ট্রফি জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়েই তাঁর বিদায়।
মাত্র একটি বড় সাফল্য ছিল ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ জয়। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী দলে থাকলেও চোটের কারণে তিনি মাঠে নামতে পারেননি।
গত কয়েক বছর ধরে বারবার চোটে ভুগে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অনিয়মিত হয়ে পড়ে তাঁর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।
২০২৫ সালের শুরুতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসলেও বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি তিনি। তবুও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে ও নকআউটে সীমিত সময় খেলেন।
জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও ক্লাব ফুটবলে সান্তোসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন নেইমার।
সানা/আপ্র/৭/৭/২০২৬